গত চার দশক ধরে কেবল চারটি প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে আইসক্রিম বানিয়ে বিক্রি করছেন ভারতের আহমেদাবাদ শহরের এক ৮০ বছরের নারী। কৃত্রিম সুগন্ধি, রং ও প্রিজারভেটিভযুক্ত প্যাকেটজাত আইসক্রিমের এই রমরমা বাজারে, স্রেফ সাধারণ রেসিপি দিয়েই প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মুগ্ধ করে চলেছেন তিনি।
দুধ, ক্রিম, স্টেভিয়া (প্রাকৃতিক চিনি) ও ফল—এই সামান্য কয়েকটি উপাদান দিয়ে নানা পদের আইসক্রিম তৈরি করেন নিরঞ্জনা দেশাই। স্থানীয়দের কাছে তিনি পরম স্নেহে ‘নিরুবেন' নামে পরিচিত।
তার তৈরি জনপ্রিয় ফ্লেভারগুলোর মধ্যে রয়েছে আম, কেসর পিস্তা, সীতাফল এবং চকলেট। এর কোনোটিতেই কোনো কৃত্রিম প্রিজারভেটিভ বা রেডিমেড মিক্স ব্যবহার করা হয় না।
দ্য বেটার ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিদিন নিজ হাতে আইসক্রিম তৈরি করেন নিরঞ্জনা। সকালে রান্নাঘরে গিয়ে আইসক্রিম তৈরিতে হাত দেন, যার ভক্ত গোটা আহমেদাবাদ শহর।
যেভাবে শুরু হয়েছিল এই ব্যবসা
প্রাকৃতিক ও প্রিজারভেটিভমুক্ত আইসক্রিম যারা খোঁজেন, তাদের কাছে নিরঞ্জনার এই ছোট উদ্যোগ দারুণ জনপ্রিয়।
তার এই পথচলার গল্প তুলে ধরে দ্য বেটার ইন্ডিয়া জানায়, শুরুতে নিরঞ্জনা কেবল প্রতিবেশী, অতিথি এবং বাড়িতে আসা লোকজনের জন্য আইসক্রিম বানাতেন। তবে দ্রুতই মানুষ তার আইসক্রিমের স্বাদে ভিন্নতা খুঁজে পান।
অনেকেই তাকে উৎসাহ দিয়ে বলতেন, ‘দিদিমা, আপনার তো একটা দোকান দেওয়া উচিত।’
ব্যস, সেখান থেকে ১৯৮৬ সালে শুরু হয় ‘নিরুবা আইসক্রিমওয়ালা” হিসেবে তার পথচলা। রান্নাঘরের একটি সাধারণ গ্যাসের চুলা দিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজ তা এক জনপ্রিয় আইসক্রিম দোকানে রূপ নিয়েছে।
আজকের দিনেও ১৯৮৬ সালের সেই অপরিবর্তিত রেসিপি মেনে ঐতিহ্যবাহী কাঠের পাত্রে প্রতিদিন ফ্রেশ আইসক্রিম তৈরি করা হয়।
দেশাই পরিবারের সঙ্গে ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করা অমৃত ভাই ভাইবস অব ইন্ডিয়াকে জানান, নিরঞ্জনার আইসক্রিম তৈরির প্রক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণ ঐতিহ্যবাহী। বড় বড় কারখানার মতো ভারী মেশিনের বদলে তার রান্নাঘরে ব্যবহার করা হয় বিশাল কড়াই, যেখানে দুধ ধীরে ধীরে জ্বাল দিয়ে ঘন করা হয়।
শুরুতে গোলাপ-নারকেল, মৌরি, চকলেট, বাদাম পিস্তা কেসর এবং কেসর এলাচি—এই ৫টি ফ্লেভার নিয়ে যাত্রা শুরু করে দ্রুতই আহমেদাবাদবাসীর মন জয় করে নেন তিনি।
বর্তমানে সেই দোকানে মিলছে ২৭টি ভিন্ন ফ্লেভারের আইসক্রিম, যা এর প্রাকৃতিক উপাদান ও চমৎকার স্বাদের জন্য সবার কাছে সমাদৃত।