প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এইচ-১বি ভিসার আবেদন ফি ১ লাখ ডলার নির্ধারণের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালতের বিচারক। সোমবার (৮ জুন) আদালত তার রায়ে জানান, বিশেষায়িত খাতে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য ব্যবহৃত এই কর্মসূচিতে এমন নতুন শর্ত আরোপ করার ক্ষমতা ট্রাম্পের নেই।
এদিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের বোস্টনের জেলা বিচারক লিও সোরোকিন বলেন, ফেডারেল অভিবাসননীতিতে এ ধরনের পরিবর্তন আনার ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসের রয়েছে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে নিয়োগ পাওয়া এই বিচারকের মতে, এই ফি কার্যত একটি কর হিসেবে বিবেচিত হয় এবং কংগ্রেস নির্বাহী বিভাগকে একতরফাভাবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুমতি দেয়নি।
সিএনএন জানিয়েছে, ৪২ পৃষ্ঠার রায়ে সোরোকিন লিখেছেন, ‘এইচ-১বি ভিসার আবেদনের ওপর কর আরোপ করার কোনো ক্ষমতা বা অর্পিত কর্তৃত্ব প্রেসিডেন্টের নেই।’
গত ডিসেম্বরে ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলদের একটি জোট এই মামলাটি দায়ের করে। তার কয়েক মাস আগে ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার হচ্ছে দাবি করে আবেদন ফি ১ লাখ ডলার নির্ধারণ করেছিল।
এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে বিদেশি পেশাজীবীরা বিশেষ দক্ষতা ও উচ্চতর যোগ্যতা প্রয়োজন এমন পেশায় যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ পান।
এই ভিসার জন্য আবেদনকারীদের অন্তত স্নাতক ডিগ্রি বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হয়। ভিসাটির মেয়াদ তিন বছর। পরে আরও তিন বছরের জন্য তা নবায়ন করা যায়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এইচ-১বি কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়তা করে, যার ফলে দেশটিতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।