তালেবানের একের পর এক নিষেধাজ্ঞার কারণে আফগানিস্তানে বর্তমানে প্রায় ৩৮ লাখ মেয়ে স্কুলে পড়তে পারছে না। সোমবার (৮ জুন) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানান এক শীর্ষ কর্মকর্তা।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের পত্রিকা দ্য ন্যাশনাল জানিয়েছে, বিবৃতিতে আফগানিস্তানে জাতিসংঘের উপ-বিশেষ প্রতিনিধি জর্জেট গ্যাগনন বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় মেয়েদের ওপর তালেবানের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে শ্রেণিকক্ষ থেকে ছিটকে পড়া ছাত্রীদের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে।
এর ফলে তারা শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সব ধরনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
গ্যাগনন বলেন, ‘বর্তমানে ৭ থেকে ১৮ বছর বয়সী আনুমানিক ৩৮ লাখ মেয়ে স্কুলে যেতে পারছে না, যার মধ্যে ২৬ লাখের বেশি কিশোরী।
‘প্রতি বছর প্রায় আড়াই লাখ মেয়ে স্থায়ীভাবে মাধ্যমিক শিক্ষা থেকে ছিটকে পড়ছে, যার ফলে মেধা ও সম্ভাবনাময় একটি পুরো প্রজন্ম হারিয়ে যাচ্ছে।’
জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কেবল শিক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। আফগান সমাজের ওপর দীর্ঘমেয়াদি এবং প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষতি চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যার ফল ভোগ করতে হবে আগামী প্রজন্মকেও।
ইউনিসেফের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, নারীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা এরই মধ্যে আফগানিস্তানের অর্থনীতিতে মারাত্মক আঘাত হেনেছে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো খাতগুলো এরই মধ্যে যোগ্য নারী পেশাজীবীর সংকটে ভুগছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটি ২৫ হাজারেরও বেশি দক্ষ নারী কর্মী হারাবে।
গ্যাগনন বলেন, ‘এই সংকটের একমাত্র সমাধান, তালেবান প্রশাসনকে নারী ও মেয়েদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ওপর থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে, যা পুরো আফগান জনগণের কল্যাণ বয়ে আনবে।’
এদিকে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে তালেবান প্রশাসন এক নতুন নির্দেশনা জারি করেছে, যেখানে নারীদের ‘সঠিক হিজাব’ ছাড়া বাইরে বের হতে মানা করা হয়েছে।
ওই নির্দেশনায় সতর্ক করে বলা হয়, যেসব নারী এই পোশাকবিধি মেনে চলবেন না, বিশেষ করে যারা মুখমণ্ডল খোলা রাখবেন কিংবা মেকআপ করবেন, তাদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।