প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক মণিশংকর মুখোপাধ্যায়—যিনি পাঠকমহলে ‘শংকর’ নামেই বেশি পরিচিত—আর নেই। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বেলা পৌনে ১টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর।
বেশ কিছুদিন ধরে বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন শংকর। দুই সপ্তাহ আগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি।
প্রয়াত সাহিত্যিকের চিকিৎসক ডা. সুদীপ্ত মিত্র আনন্দবাজার ডটকমকে বলেন, ‘সপ্তাহ দুয়েক আগে ফের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে তার। ৪ ফেব্রুয়ারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এতদিন সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। শুক্রবার দুপুরে জীবনাবসান ঘটে এই সাহিত্যিকের।’
পশ্চিমবঙ্গের এই অগ্রগণ্য সাহিত্যিকের প্রয়াণে শোক জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, ‘বাংলার প্রখ্যাত সাহিত্যিক মণিশংকর মুখোপাধ্যায় (শংকর)-এর প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত। তার প্রয়াণে বাংলা সাহিত্য জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন হলো। 'চৌরঙ্গী' থেকে 'কত অজানারে', 'সীমাবদ্ধ' থেকে 'জন অরণ্য'—তার কালজয়ী সৃষ্টিগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম বাঙালি পাঠককে মুগ্ধ করেছে। তার লেখনীর আধারে উঠে এসেছে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রামের না-বলা কথা। বিশেষ করে স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে তার সুগভীর গবেষণা ও গ্রন্থসমূহ আমাদের কাছে অমূল্য সম্পদ। তার প্রয়াণ আমাদের সাংস্কৃতিক জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি। আমি তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও অগণিত গুণগ্রাহীকে আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাই।’
১৯৩৩ সালের ৭ ডিসেম্বর অধুনা বাংলাদেশের যশোর জেলায় জন্ম মণিশংকরের। আইনজীবী বাবা হরিপদ মুখোপাধ্যায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে কলকাতায় চলে আসেন। বসবাস করতে থাকেন হাওড়ায়।
সেখানেই শংকরের বেড়ে ওঠা, লেখাপড়া। পরবর্তীকালে তার সাহিত্যচর্চার শুরুও এখান থেকেই। ১৯৫৫ সালে তার প্রথম বই প্রকাশিত হয়। ‘কত অজানারে’ উপন্যাস লিখে জনপ্রিয়তা লাভ করেন। তার উপন্যাস অবলম্বনে ১৯৬৮ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমা ‘চৌরঙ্গী’ শংকরের জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়ে দেয়।
এই ছবিতে উত্তমকুমারের অভিনয় আলাদা মাত্রা এনে দিয়েছিল। এ ছাড়া তিনি লিখেছেন, ‘সীমাবদ্ধ’, ‘জন অরণ্য’, ‘চরণ ছুঁয়ে যাই’, ‘অচেনা অজানা বিবেকানন্দ’ ইত্যাদি। তার ‘সীমাবদ্ধ’ ও ‘জন অরণ্য’ উপন্যাস দুটির চিত্ররূপ দিয়েছিলেন সত্যজিৎ রায়।