নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার ইটভাটা ব্যবসায়ী জাবেদ হোসেন (৩৫) নিখোঁজ হওয়ার এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো মেলেনি তার সন্ধান। নিখোঁজ জাবেদকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগ তুলেছে তার পরিবার। এমনকি হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ নষ্ট করতে মরদেহ ইটভাটায় পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তার স্ত্রী শারমিন আক্তার রুপা।
মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়ে এসব কথা জানান তিনি।
শারমিন আক্তার রুপা জানান, ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ বিকেলে ব্যবসায়িক আলোচনার কথা বলে জাবেদকে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায় এবং তিনি আর ঘরে ফেরেননি।
তিনি অভিযোগ করেন, ‘স্থানীয়ভাবে গুঞ্জন রয়েছে যে, জাবেদকে প্রথমে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে নাহারখিল এলাকার একটি ইটভাটায় তার দেহাবশেষ পুড়িয়ে আলামত নষ্ট করা হয়েছে। ব্যবসায়ী জাবেদ নিখোঁজের ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করা হলেও এক বছরেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অভিযুক্তরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। পুলিশ কিংবা তদন্তকারী সংস্থা এখন পর্যন্ত নিখোঁজ ব্যক্তির কোনো আলামত বা মরদেহ উদ্ধার করতে পারেনি।
এদিকে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে বর্তমানে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন শারমিন রুপা। তিন সন্তান নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তিনি। জাবেদের দুই ছেলে তামজিদ ও জুনায়েদের পড়াশোনাও বন্ধ হওয়ার উপক্রম। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে দিশেহারা এই মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন।
নিরাপত্তাহীনতায় এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পালিয়ে বেড়ানো এই পরিবারটি এখন বিচারহীনতার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে শারমিন আক্তার রুপা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তার স্বামীর নিখোঁজের রহস্য উদঘাটন এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘জীবিত বা মৃত—যে অবস্থাতেই হোক, আমি আমার স্বামীকে ফিরে চাই। অপরাধীদের বিচার চাই।’
বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন থাকলেও আলামত ও আসামিদের বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।