রাজধানীর শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচির পাশ থেকে খেলনা পিস্তলসহ আটক আরাফাত জামানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে কারাগারে পাঠায় শাহবাগ থানা পুলিশ। পুলিশ বলছে, আটক যুবকের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিনি মানসিক বিকারগ্রস্থ।
শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আসাদুজ্জামান জানান, ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আরাফাত জামানকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।
জানা গেছে, সোমবার রাত আনুমানিক ৮টা ৩০ মিনিটে শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের আন্দোলন চলাকালে সন্দেহভাজন আরাফাত জামান নামের ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। আন্দোলনকারীরা তাকে পিস্তল সদৃশ অস্ত্রসহ শাহবাগ থানায় সোপর্দ করে। পরে সিআইডির পরীক্ষায় উদ্ধারকৃত অস্ত্রটি খেলনা পিস্তল বলে নিশ্চিত করে।
এর আগেও নিজেকে মেজর পরিচয় দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এই যুবকের বিরুদ্ধে। সে ঘটনায় তার বিরুদ্ধে রমনা মডেল থানায় একটি মামলাও রজু হয়।
গ্রেপ্তার আরাফাত জামানের বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার অরণ্যপাশা এলাকায়। তিনি বর্তমানে ধানমন্ডি এলাকায় বসবাস করছিলেন।
শাহবাগ থানা সূত্রে জানা গেছে, আরাফাত জামান যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ওয়েলস থেকে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্সি সম্পন্ন করে দেশে ফেরেন। তার বাবা একটি শিল্পগ্রুপের কান্ট্রি ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং ২০২২ সালে মারা যান। তার মা একটি কলেজের অধ্যাপিকা।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লায় বিয়ের পর তার স্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেলে তাদের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পরিবারের দাবি, এসব ঘটনার পর থেকেই তিনি মানসিক সমস্যায় ভুগছেন।
রমনা মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর সকালে রাজধানীর পরিবাগ এলাকায় কোমরে অস্ত্র সদৃশ বস্তু নিয়ে অবস্থানকালে আরাফাত জামানকে আটক করে পুলিশ। সে সময় জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেকে ডিজিএফআইয়ের মেজর মো. আরাফাত জামান পরিচয় দেন। ওই সময় তিনি দাবি করেন প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ কেন্দ্রিক নিরাপত্তা ডিউটিতে নিয়োজিত রয়েছেন তিনি।
তবে তিনি কোনো বৈধ পরিচয়পত্র উপস্থাপন করতে অস্বীকৃতি জানান। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমরা ঠিকভাবে ডিউটি কর। না, হইলে তোদের চাকরি খেয়ে দিব।’
পরবর্তীতে তিনি একটি আইডি কার্ড সদৃশ কার্ড প্রদর্শন করে একটি গোয়েন্দা সংস্থার লোক বলে দাবি করেন। তবে পুলিশ বিভিন্ন মাধ্যমে যাচাই করে গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তার পরিচয়ের সত্যতা পায়নি। ওই ঘটনায় সেসময় রমনা থানায় তার বিরুদ্ধে একটি মামলা রজু হয়।