দরজায় কড়া নাড়ছে নতুন বছর। মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই বিদায় নেবে ২০২৫। বছরের শেষ রাতকে ‘থার্টিফাস্ট নাইট’ হিসেবে উদযাপন করা হয়। অন্যদিকে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কয়েকটি নির্দেশনা জারি রয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেওয়া ডিএমপির নির্দেশনা অনুযায়ী, বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) থেকে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) পর্যন্ত শোক পালনকালীন ঢাকা মহানগর এলাকায় সব ধরনের আতশবাজি, পটকা ফোটানো, ফানুস ও গ্যাস বেলুন ওড়ানো নিষিদ্ধ থাকবে। একই সঙ্গে উন্মুক্ত স্থানে কোনো ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ডিজে পার্টি, র্যালি বা শোভাযাত্রা আয়োজন করা যাবে না।
এ ছাড়া উচ্চশব্দে গাড়ির হর্ন বাজানো বা গণ-উপদ্রব সৃষ্টি করে—এমন কোনো কর্মকাণ্ড থেকেও বিরত থাকতে হবে। ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর সই করা গণবিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা মেনে চলতে নগরবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
এদিকে খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে থার্টি ফার্স্ট নাইটে আতশবাজি ফোটানো, ফানুস ওড়ানোসহ নানা আয়োজন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ আহবান জানান তিনি।
পোস্টে সাদিক কায়েম লেখেন, ‘বাংলাদেশের আপসহীন সংগ্রামের প্রতীক, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে সমগ্র জাতি আজ গভীর শোক ও বেদনায় মুহ্যমান। জুলাই বিপ্লবের অগ্রসেনানী শরিফ ওসমান হাদি ভাইও শহিদ হয়ে আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নিয়েছেন। এই শোকাবহ সময়ে তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো ও জাতীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব। এ ছাড়া আমরা দেখেছি প্রতিবছরই ফানুসের আগুন থেকে বাড়িঘর-দোকানপাটে আগুন লেগে বিপুল পরিমাণ সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—আতশবাজির বিকট শব্দে অসংখ্য পাখি এমনকি মানবসন্তানের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।’
আতশবাজি ফুটানো ও ফানুস ওড়ানো থেকে বিরত থাকার আহবান জানিয়ে তিনি আরও লেখেন, ‘এ প্রেক্ষিতে ডাকসুর পক্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মচারীসহ সারাদেশের সবার প্রতি আতশবাজি ফোটানো, ফানুস ওড়ানো ইত্যাদি আয়োজন থেকে বিরত থাকতে বিনীত আহ্বান জানাচ্ছি।’
বুধবার বিকেলে জানাজা শেষে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও তার স্বামী জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খালেদা জিয়াকে দাফন করা হয়। খালেদা জিয়ার কবরে সবার আগে নামেন তার বড় ছেলে ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নিজ হাতে তিনি তার মাকে কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত করেন।
এর আগে বুধবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বিএনপির শীর্ষ নেতা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, কূটনীতিক, বিশিষ্ট ব্যক্তিসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।