চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে আপত্তি তুলে রিট, নীতিনির্ধারকদের বক্তব্যেও বিভক্তি
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় ন্যায্য ও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বান চেয়ে করা রিটের আদেশ পিছিয়েছে হাইকোর্ট। নতুন করে আগামী ৩০ জুলাই আদেশ ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছে। বুধবার (২৩ জুলাই) বিচারপতি হাবিবুল গনি ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। এর আগে গত ৯ জুলাই শুনানি শেষে রায়ের জন্য ২৩ জুলাই দিন নির্ধারণ করেছিলেন আদালত। আজ বিষয়টি আদালতের কার্যতালিকার ৭ নম্বরে ওঠে। শুনানির সময় আদালত বলেন, "আমরা মুলতবি করছি। আগামী বুধবার আদেশের জন্য আসবে।"
রিটের প্রেক্ষাপট
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিটটি দায়ের করেন বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসাইন। রিটে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ দেশি অপারেটরদের অংশগ্রহণের সুযোগ না দিয়েই, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) আইন ও নীতিমালা লঙ্ঘন করে বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির উদ্যোগ নিয়েছে। এ প্রক্রিয়া কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এ বিষয়ে রুল জারির অনুরোধ জানানো হয়। এছাড়া এনসিটির পরিচালনায় কোনো অপারেটর নিয়োগ দেওয়ার আগে ন্যায্য ও প্রতিযোগিতামূলক পাবলিক বিডিং নিশ্চিত করতে আদালতের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।
আদালতে অংশগ্রহণ
রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, আহসানুল করিম ও আইনজীবী কায়সার কামাল। তাদের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী আনোয়ার হোসেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মহাদ্দেস-উল-ইসলাম ও মাহফুজ বিন ইউসুফ।
গণমাধ্যম প্রতিবেদন যুক্ত
রিট আবেদনের সঙ্গে প্রথম আলোতে প্রকাশিত ‘নিউমুরিং টার্মিনালে সবই আছে, তবু কেন বিদেশির হাতে যাচ্ছে’ শিরোনামের প্রতিবেদনসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংবাদ প্রতিবেদন যুক্ত করা হয়। এরপর ৯ জুলাই রিটের ওপর প্রাথমিক শুনানি শেষ হয়। এনসিটি পরিচালনা নিয়ে চুক্তির বৈধতা, স্বচ্ছতা এবং নীতিমালার অনুসরণ এসব প্রশ্নের আলোকে আদালতের চূড়ান্ত আদেশ এখন ৩০ জুলাই পর্যন্ত মুলতবি রাখা হলো।