দেশীয় চক্রের সহযোগিতায় ভয়ঙ্কর মাদক কোকেন আসছে বাংলাদেশে, লক্ষ্য পার্শ্ববর্তী দেশগুলো
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে ব্যবহার করে কোকেন পাচারের চেষ্টা চালাচ্ছে আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার মাদক সিন্ডিকেট। মূলত বাংলাদেশে কোকেনের ব্যবহারকারী সংখ্যা খুব কম হলেও পার্শ্ববর্তী দেশে এর ব্যবহার বেশি হওয়ায় বাংলাদেশকে তারা রুট হিসেবে ব্যবহার করছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের (ডিএনসি) উপ-পরিচালক মেহেদি হাসান জানান, বিমানবন্দরে কোকেনসহ আটক হওয়া অধিকাংশই আফ্রিকান বা ল্যাটিন আমেরিকান নাগরিক। সর্বশেষ আটক হওয়া নারী গায়ানার বাসিন্দা এম এস কারেন পেতুলা স্টাফেল। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৮ কেজি ৬০০ গ্রাম কোকেন, যা দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ চালান।
ডিএনসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদেশি মাদক বহনকারীরা দেশীয় কিছু চক্রের সঙ্গে যোগসাজশে বিমানবন্দর থেকে নিরাপদে বের হওয়ার নিশ্চয়তা পেত। তদন্তে উঠে এসেছে, ‘ডন ফ্রাঙ্কি’ বা জ্যাকব ফ্রাঙ্কি নামে এক মাফিয়া এই সিন্ডিকেট পরিচালনা করছে। সে বাংলাদেশে নাইজেরিয়ান কমিউনিটির প্রেসিডেন্ট ছিল এবং গার্মেন্টস ব্যবসার আড়ালে কোকেন পাচারের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে।
গোয়েন্দাদের বিশেষ অভিযানে একে একে রনি, আসাদুজ্জামান আপেলসহ বেশ কয়েকজন দেশীয় সহযোগীকে আটক করা হয়। পাশাপাশি নাইজেরিয়ান নাগরিক অস্কার ও পোডোস্কিকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে প্রমাণিত হয়, বাংলাদেশ কেবল ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহৃত হলেও পাচার প্রতিরোধে বিমানবন্দরে কঠোর নজরদারি চলছে।