ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছে তৃতীয় দিনের মতো দুই পক্ষের সংঘর্ষে অচল হয়ে পড়েছে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক সড়ক। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল থেকে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সন্ধ্যায় কালীকচ্ছ ইউনিয়নের সূর্যকান্দি গ্রামের মোশাররফ হোসেন ও ধর্মতীর্থ গ্রামের হাদিম মিয়ার মধ্যে পাওনা টাকা নিয়ে বাগবিতণ্ডার জেরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ধর্মতীর্থ গ্রামের শামছুল মিয়ার ছেলে হাদিম মিয়া (৫৫) নিহত হন। এরপর সোমবার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে হাদিম মিয়ার লাশ দাফনের পর উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ে। ধর্মতীর্থ গ্রামের শত শত লোক কালীকচ্ছ বাজারে সূর্যকান্দি গ্রামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। সন্ধ্যায় দুই পক্ষ আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোড়ে।
মঙ্গলবার সকালেও দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হলে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে বাস, ট্রাক, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন দীর্ঘ সময় আটকা পড়ে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কালীকচ্ছে অবস্থিত আঞ্চলিক বিজিবি সদর দপ্তর ও সরাইল বিজিবি ব্যাটালিয়নের আশপাশের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। কালীকচ্ছ বাজারের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। অনেক দোকানের শাটার খোলা থাকলেও ভেতরে কোনো মালামাল ছিল না।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে কয়েক শতাধিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উপস্থিত রয়েছেন সরাইল-আশুগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম এবং সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল কাদের ভূঁইয়া। জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি, খুব দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।’