হারিকেন আর মোমবাতির আলোয় শুরু হয়েছিল স্বপ্নের পথচলা। সেই পথ পেরিয়ে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) ৪৭তম পরীক্ষায় পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম স্থান অর্জন করে অনন্য কৃতিত্ব দেখিয়েছেন নেত্রকোনা সদর উপজেলার রায়দুম বাগড়া গ্রামের সন্তান তানভীর রহমান। তার এই অসাধারণ সাফল্যে আনন্দের জোয়ার বইছে পরিবার, স্বজন ও পুরো এলাকায়।
রোববার (২৮ জুন) প্রকাশিত ৪৭তম বিসিএসের ফলাফলে পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তানভীর। তিনি নেত্রকোনা সদর উপজেলার রায়দুম বাগড়া গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে।
তানভীরের বাবা নেত্রকোণার শামছুদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং মা একজন গৃহিণী। তিন ভাইবোনের মধ্যে তানভীর সবার বড়।
তানভীরের বাবা জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি অত্যন্ত মেধাবী, পরিশ্রমী ও শৃঙ্খলাপরায়ণ ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলাতেও ছিলেন সমান দক্ষ। গ্রামের বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ের দূরত্ব ছিল প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। প্রতিদিন হেঁটে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হতো। সে সময় এলাকায় বিদ্যুৎ সুবিধা না থাকায় হারিকেন ও মোমবাতির আলোয় বাবার নিবিড় তত্ত্বাবধানে পড়াশোনা করেছেন তিনি।
২০১৯ সালে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এইচএসসি পাস করেন তানভীর। এরপর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হয়ে ২০২৫ সালে স্নাতক সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।
পরিবারের সদস্যরা মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তানভীরের একাগ্রতা, কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের ফলেই আজকের এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, তানভীর রহমানের এই কৃতিত্বে তারা গর্বিত। তাদের প্রত্যাশা, দেশের পররাষ্ট্র সেবায় দক্ষতা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে তিনি নেত্রকোনার পাশাপাশি বাংলাদেশকেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও গৌরবান্বিত করবেন।
একজন গ্রামের সাধারণ শিক্ষকের সন্তানের হারিকেনের আলো থেকে দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হওয়ার এই অনুপ্রেরণার গল্প নতুন প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখতে এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সাহস জোগাবে—এমনটাই বিশ্বাস পরিবার ও এলাকাবাসীর।