‘প্রতি বছর বর্ষা আইলেই আমাগো আতঙ্ক শুরু হয়। অনেকে সব হারাইয়া নিঃস্ব। এহন আত্মিয়ের বাড়ি থাকে। আমরা কোনো মতে ঘরডা লইয়া আছি। কখন ঘরবাড়ি নদীতে লইয়া যায়, হেই ভয়ে আছি।’ এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের খুনের চর গ্রামের বাসিন্দা রহিম আলী। শুধু রহিম আলী নন, তার মতো এখানকার শত শত পরিবার এখন নদী ভাঙনের আতঙ্ক নিয়ে দিন পার করছে।
জানা গেছে, মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা ঘিরে বয়ে গেছে আড়িয়াল খাঁ নদ। বর্ষা মৌসুম এলেই এই নদে তীব্র ভাঙন শুরু হয়। এরই মধ্যে এ বছর নদীর তীব্র স্রোতের কারণে উপজেলার বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের খুনের চর, সাহেবরামপুর, কয়ারিয়া, মোল্লারহাটসহ নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে ব্যাপক নদীভাঙন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে প্রায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদীভাঙন দেখা দেয়। এতে গড়ে ১০০ থেকে ২০০ পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়। অনেক পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। কেউ স্বজনের বাড়িতে, কেউ আবার ভাড়া বাসায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
সবচেয়ে বেশি ভাঙন দেখা দিয়েছে বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের খুনের চর এলাকায়। এছাড়া মাদারীপুর সদর উপজেলার মহিষের চর এলাকাতেও নদীভাঙন শুরু হয়েছে। নদীর তীব্র স্রোতে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা বিলীন হওয়ায় চরম উদ্বেগে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
খুনের চরের আরেক বাসিন্দা করিম মোল্লা। নাগরিক প্রতিদিনকে তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর জিও ব্যাগ ফেলা হলেও কয়েক দিনের মধ্যেই সেগুলো নদীর স্রোতে কার্যকারিতা হারায়। স্থায়ী নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ছাড়া এই সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান হবে না।’
গৃহিণী ফুলমতি বেগম বলেন, ‘আমাদের রাতের ঘুম নেই। নদী একটু একটু করে এগিয়ে আসছে। সন্তানদের নিয়ে সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়। সরকার যেন দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়, এটাই আমাদের একমাত্র চাওয়া।’
এ বিষয়ে কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফ উল আরেফীন বলেন, নদীভাঙন রোধে সরকারের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি স্থায়ী নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।