প্রকাশিত : ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১০:১৯:৫০
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় রাতের আঁধারে নৃশংসতার শিকার মো. সেলিম (৪৫) নামে গুরুতর আহত এক শ্রমিক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। পরিবারের অভিযোগ, সেলিম আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
রোববার (৩০ নভেম্বর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ভোলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেলিমের মৃত্যু হয়। তিনি উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোষেরহাওলা গ্রামের মৃত মনতাজের ছেলে। এর আগে শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সেলিম আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে তিনি আত্মগোপনে যান। পরে গত শনিবার রাতে (২৯ নভেম্বর) তিনি নিজ গ্রামে ফিরলে স্থানীয় প্রভাবশালীরা তাকে মারধরের পর হাতে-পায়ে পেরেক ঢুকিয়ে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের পর মুমূর্ষু অবস্থায় রাস্তার পাশে ফেলে যায়।
নিহতের স্ত্রী রেখা বেগমের অভিযোগ, “আমার স্বামী আওয়ামী লীগ করত। সে যখন পলাতক ছিল, তখন বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়। তার কোনো পদ-পদবি নেই। গতরাতে সে আমাকে মোবাইলে বলেছিল, বাড়িতে আসছে। আমি নিষেধ করেছিলাম। পরে গতকাল রাতে লোকজনের কানাঘুঁষা শুনি যে, আমার স্বামীকে বাড়ির পাশের বিল থেকে ধরে নিয়ে গেছে এবং বলতে শুনি, ‘সেলিমকে ধরছি, রড দিয়ে পিটিয়ে ওর হাড়গোড় ভাঙছি’। পরে তার মোবাইলে কল দিয়েও বন্ধ পাই। সকালে খবর পেয়ে স্থানীয় ঘোষেরহাওলা বাজারে গিয়ে দেখি তাকে মরার মতো একটি দোকানের পাশে শুইয়ে রাখা হয়েছে। এরপর আমি আর আমার ননদ মিলে তাকে উদ্ধার করে তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। সেখান থেকে তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। এর মধ্যে বিকেলে তিনি মারা যান। আমি আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই।’
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে তজুমদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহব্বত খান বলেন, ‘পুরো ঘটনাটি তদন্তাধীন, প্রতিটি বিষয় আমরা খতিয়ে দেখছি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
এক প্রশ্নের জবাবে ওসি আরও বলেন, ‘সেলিমের বিরুদ্ধে ভোলার লালমোহন থানাসহ আরেকটি থানায় মোট দুটি চুরির মামলা রয়েছে।’