খুলনা নগরীর হরিণটানা থানার শ্মশানঘাট এলাকায় চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে প্রবাসী ও সংখ্যালঘু পরিবারের বসতভিটায় পরিকল্পিত হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা নিজেদের বিএনপির পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ৭৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শ্মশানঘাট এলাকার অধিকাংশ বাসিন্দা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ফারুক ও মাসুমের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি সংঘবদ্ধভাবে ওই এলাকায় হামলা চালায়।
হামলাকারীরা অন্তত তিনটি ঘর কুপিয়ে তছনছ করে এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এ সময় ঘরে থাকা নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। হামলায় নারী, শিশু, প্রবাসী, স্কুল শিক্ষকসহ একাধিক ব্যক্তি আহত হন।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছেন— সনদ সাহা, অবসরপ্রাপ্ত আর্মি সার্জেন্ট রেজা, খালিদ, মোহাম্মদ হালিম, হীরামন বিশ্বাস, প্রবাসী মাহবুব শিকদার, সাবিকুন্নাহার, জুয়েল, সজল শিকদার, জাকির হোসেন, মোসা. তানিয়া, ডা. পলাশ ও ডা. উর্মিসহ আরও অনেকে।
সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রকাশ্যে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদা আদায়ের এমন ঘটনা এলাকায় নতুন নয়। তবে এবার প্রকাশ্য দিবালোকে হামলা ও লুটপাটে পুরো এলাকা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।
ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এ ঘটনায় দ্রুত মামলা গ্রহণ, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং সংখ্যালঘু ও প্রবাসী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।