ঘটনার আগেই তথ্য ছিল? পুলিশ কেন থামাতে পারল না সহিংসতা?
লালমনিরহাট সদর উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে পরেশ চন্দ্র শীল (৬৯) ও তার ছেলে বিষ্ণু চন্দ্র শীল (৩৫) নামের দুই সংখ্যালঘু নরসুন্দরকে প্রকাশ্যে মারধর করে পুলিশে দেয় উত্তেজিত জনতা। এই ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরনবীর মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ঘিরে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, স্থানীয় মসজিদের ইমামের নেতৃত্বে একটি মিছিল সেলুনে গিয়ে পিতা-পুত্রকে টেনে বের করে মারধর করে। পুলিশ এলে তাদের সামনেই মারধর চলতে থাকে এবং পরে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়। ওসি নুরনবী থানার সামনে জড়ো হওয়া জনতার উদ্দেশে বলেন, "বাংলাদেশে এমন মামলা দিব যে, নিশ্চিত তাদের যাবজ্জীবন বা ফাঁসি হয়।" এ বক্তব্যে সমালোচনার ঝড় ওঠে। মানবাধিকার কর্মী নূর খান বলেন,
"ওসি সাহেব আইনের বাইরে গিয়ে মবকে উসকে দিয়েছেন। এতে মামলার নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।"
পরেশ ও বিষ্ণুর পরিবারের দাবি, ধর্ম অবমাননার কোনো ঘটনা ঘটেনি। ১০ টাকা কম দেওয়া নিয়ে বাগবিতণ্ডা থেকেই উত্তেজনা শুরু হয়। দীপ্তি রানী শীল জানান, “আমার স্বামী ও শ্বশুর নির্দোষ। তারা ধর্ম অবমাননা করেননি। তারা শুধু বকেয়া টাকা চেয়েছিলেন।"
এদিকে অভিযুক্তদের মুক্তি ও সুবিচারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র নাথ বলেন, “ওসি সাহেব হামলাকারীদের পক্ষ নিয়েছেন। তিনি তো মবেরই অংশ হলেন।” পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম জানান, “ওসি নুরনবীকে সতর্ক করা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না।”
মামলার বাদী ও স্থানীয় ইমাম আব্দুল আজিজ বলেন, “ধর্ম অবমাননার অভিযোগ মুসল্লিদের কাছ থেকে শুনে আমি মামলা করেছি।” তবে তিনি স্বীকার করেন, তিনি নিজে ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন না।
বর্তমানে পরেশ চন্দ্র শীল ও বিষ্ণু চন্দ্র শীল কারাগারে আছেন। মামলার তদন্ত চলছে এবং এখনও তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে জামিনের আবেদন করা হয়নি। সমাজে অনাস্থা তৈরি হওয়া ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।