সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায় এক বিরল ও আলোচিত ঘটনায় নারী থেকে পুরুষে রূপান্তরিত হয়েছেন হালিমা খাতুন (২৫)। বর্তমানে তিনি নিশান ইমতিয়াজ নামে পরিচিত। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চর সলিমাবাদ গ্রামে। এ ঘটনায় পুরো উপজেলায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিশান ইমতিয়াজ ওই গ্রামের আব্দুস সামাদ দর্জির সন্তান। আগে হালিমা খাতুন নামে পরিচিত ছিলেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই স্বভাব ও চলাফেরায় কিছুটা পুরুষদের মতো ছিল। ধীরে ধীরে তার শরীরের গঠন ও কণ্ঠস্বর পরিবর্তিত হতে থাকে। একপর্যায়ে সম্পূর্ণভাবে নারী থেকে পুরুষের রূপ ধারণ করেন তিনি।
পরিবার জানায়, বিষয়টি শুরুতে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়নি। পরে শারীরিক পরিবর্তন স্পষ্ট হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন তারা। চিকিৎসকরা জানান, শরীরে অতিরিক্ত পুরুষ হরমোনের প্রভাবেই এমন পরিবর্তন ঘটতে পারে। বর্তমানে নিশান ইমতিয়াজ শারীরিকভাবে সুস্থ রয়েছেন।
হালিমা খাতুন সম্ভুদিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৫ সালে এসএসসি পাস করেন এবং একই বছর তার বিয়ে হয়। তিনি প্রায় ১২ বছর সংসার করেছেন এবং তার একটি ছেলে রয়েছে।
নিশানের বাবা আব্দুস সামাদ বলেন, ‘সব কিছু আল্লাহর ইচ্ছায় হয়েছে। এতে কারও কোনো হাত নেই। আমরা বিষয়টি মেনে নিয়েছি।’
পরবর্তীতে সিরাজগঞ্জ বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে এফিডেভিট করে তার নাম পরিবর্তন করে নিশান ইমতিয়াজ রাখা হয়। চৌহালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. মোহাম্মদ আসিফ আহমেদ বলেন, ‘লিঙ্গ নির্ধারণ চিকিৎসা পরীক্ষার মাধ্যমেই নিশ্চিত করা যায়। মেডিকেল সায়েন্সে এমন ঘটনা বিরল হলেও হরমোনজনিত পরিবর্তনের কারণে শারীরিক গঠনে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।’