জুলাই আন্দোলনের তিনটি হত্যা মামলায় সিনিয়র রাজনীতিবিদ ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নামে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ।
তিন হত্যা মামলায় মমতাজ-মুরাদসহ চারজনকে নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় সংঘটিত তিনটি হত্যাকাণ্ডের মামলায় মানিকগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) মমতাজ বেগম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম, এবং নোয়াখালীর সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান–এই চারজনকে নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছে আদালত। সোমবার (৩০ জুন) তাদের আদালতে হাজির করে সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করলে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট পার্থ ভদ্র শুনানি শেষে তা মঞ্জুর করেন।
তিন থানার তিন মামলায় গ্রেপ্তার
তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বিভিন্ন সময় ও স্থানে ঘটে, তবে সবগুলোই কেন্দ্র করে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে।
ধানমন্ডি থানা:২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে অবস্থিত হোটেল চিলিসের সামনে আন্দোলনে অংশ নেয় ১৩ বছরের কিশোর মো. শামীম। সেদিনের সহিংসতায় দগ্ধ হয়ে পরদিন ৬ আগস্ট সে মারা যায়। মামলায় শাহে আলম মুরাদ ও জাহাঙ্গীর আলমকে আসামি করা হয়।৩ অক্টোবর নিহতের মা জাহানারা বেগম ১২৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন, যার মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও আছেন।
কোতোয়ালি থানা:একইদিন, ৫ আগস্ট, তাঁতীবাজার মোড়ে আন্দোলনে অংশ নেন ২৩ বছর বয়সী শাওন মুফতি। গুলিতে আহত হয়ে সে মারা যায়। নিহতের মা মাকসুদা বেগম ২৮ মে শেখ হাসিনাসহ ৫৭ জনকে আসামি করে মামলা করেন। এই মামলায় মমতাজ বেগম ১৪ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি।
যাত্রাবাড়ী থানা: ২০২৪ সালের ২১ জুলাই শনির আখড়ায় আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হন মঈনুল ইসলাম ওরফে মাঈনুদ্দিন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেলে, তার বাবা কামরুল ইসলাম ২০ সেপ্টেম্বর মামলা করেন। এই মামলায় ১৭৪ জনকে আসামি করা হয়, যার মধ্যে আসাদুজ্জামান অন্যতম। তদন্তাধীন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো
প্রতিটি মামলাতেই সংশ্লিষ্ট থানার তদন্ত কর্মকর্তারা আদালতে আবেদন করেন, যাতে আসামিদের পূর্ব মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আদালত তিনটি পৃথক আদেশে আবেদন মঞ্জুর করেন। এখন তদন্ত সংস্থা চাইলে রিমান্ড আবেদন করতে পারবে।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তোলপাড়
মামলাগুলোর আসামির তালিকায় রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য, পুলিশ ও প্রশাসনের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা এবং ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিবিদরাও। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি বেশ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে। অনেকেই এটিকে দায়মুক্তির সংস্কৃতি ভাঙার এক নতুন নজির হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন, এটি রাজনৈতিক প্রতিশোধের ধারাবাহিকতা।