বিশ্ব বাজারে সার ও জ্বালানির দামের অস্থিরতা মোকাবিলা, খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশকে ১১০ কোটি (১.১ বিলিয়ন) ডলার সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। শুক্রবার (২৭ জুন) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের জেরে বৈশ্বিক সার ও জ্বালানি বাজারে মূল্য ও সরবরাহে অস্থিরতা মোকাবিলা, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
এই তহবিলের মধ্যে ৩০ কোটি ডলার দেওয়া হবে ইমার্জেন্সি সাপোর্ট ফর ফুড সিকিউরিটি বা খাদ্য নিরাপত্তায় জরুরি সহায়তা প্রকল্পে। বাকি ৭১ কোটি ৩০ লাখ ডলার দেওয়া হবে ‘কনটিনজেন্ট ইমার্জেন্সি রেসপন্স’ বা আকস্মিক দুর্যোগ মোকাবিলার জরুরি কর্মসূচি প্রকল্পের আওতায়।
এই অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য নগদ সহায়তা ও জীবিকা পুনর্বাসনে ব্যয় করা হবে। এর মাধ্যমে আয় স্থিতিশীল রাখা ও কর্মসংস্থান স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করা হবে। এ ছাড়া খাদ্য, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম, বিদ্যুৎ ও পানিসহ অতিপ্রয়োজনীয় সেবাগুলো চালু রাখতে এই তহবিল থেকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য অর্থায়ন করা হবে। এই প্রকল্পের আওতাধীন অর্থ ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে বিতরণ করার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেম বলেন, ‘সংকুচিত রাজস্ব খাতের পাশাপাশি খাদ্য, সার ও জ্বালানির ক্রমবর্ধমান খরচ ক্ষুদ্র চাষি ও ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ধান উৎপাদনের জন্য সারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, চাকরি ও জীবিকা রক্ষা করতে ও জরুরি সেবা সচল রাখতে বিশ্বব্যাংক তাৎক্ষণিক সহায়তা নিয়ে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে।’
এই ৩০ কোটি ডলারের প্রকল্পের আওতায় ছয় লাখ টন জরুরি সার (যার মধ্যে পাঁচ লাখ টন ইউরিয়া সার) আমদানিতে অর্থায়ন করা হবে। এই সার ২০২৬ সালের আমন (জুলাই-অক্টোবর) ও ২০২৬-২৭ সালের বোরো (অক্টোবর-এপ্রিল) মৌসুমে ১৪ লাখ হেক্টর ধান চাষের চাহিদা পূরণ করবে। বাংলাদেশ তার প্রয়োজনীয় সারের ৮৫ শতাংশেরও বেশি আমদানি করে থাকে।
বিশ্বব্যাংকের লিড ইকোনমিস্ট ও প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার সোলেমান কুলিবালি বলেন, ‘আমন ও বোরো মৌসুম মিলেই দেশের মোট বার্ষিক ধান উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ আসে। সারের সরবরাহে যেকোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তা কেবল খাদ্য নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলবে না, বরং দারিদ্র্য আরও বাড়িয়ে দেবে ও কর্মসংস্থানেও প্রভাব ফেলবে।’
বিশ্বব্যাংকের দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ ও প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার লেসলি জিন ইউ করদেরো বলেন, ‘এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিদ্যমান অন্যান্য প্রকল্পের অব্যবহৃত অর্থ পুনঃঅর্থায়নের (রিপারপাস) মাধ্যমে এমন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হবে, যেখানে সবচেয়ে বেশি জরুরি প্রয়োজন।’