বাংলাদেশের সিনেমা শিল্প চরম দুঃসময় পার করছে। নিয়মিত আসছে না নতুন ছবি। তারকা অভিনয়শিল্পীর খরা। এসব বিষয়ের সাথে যোগ হয়েছে প্রেক্ষাগৃহ স্বল্পতা।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ সময় পার করছে দেশীয় বিনোদনের শক্তিশালী এই মাধ্যমটি।
সিনেমা শিল্পের বিকাশের জন্য অন্যতম অনুষঙ্গ হলো প্রেক্ষাগৃহ। গত কয়েক বছর ধরে একের পর এক প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ হতে হতে এখন তা ৫০-এর নিচের ঘরে নেমে এসেছে।
গত কয়েক বছর ধরে শুধুমাত্র বছরের দুই ঈদে দুই শতাধিকের মতো প্রেক্ষাগৃহ চালু হয়। তাছাড়া বছরের অন্যান্য সময় এই মৌসুমী সিনেমা হল গুলো বন্ধই থাকে।
গত কয়েক বছর ধরে শুধু প্রেক্ষাগৃহ বন্ধের খবরই পাওয়া যায়। সেখানে ব্যতিক্রম ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে আগামী ঈদের সময়।
নারায়নগঞ্জ, শরীয়তপুর ও বগুড়ায় তিনটি নতুন প্রেক্ষাগৃহ চালু হচ্ছে।
নারায়নগঞ্জ ও বগুড়ায় স্টার সিনেপ্লেক্সের নতুন শাখা চালু হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্টার সিনেপ্লেক্সেও ম্যানেজার মেসবাহ উদ্দিন।
এদিকে শরীয়তপুরের জাজিরার পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার পাশে ‘পদ্মা সিনেপ্লেক্স’ নামে আরেকটি মাল্টিপ্লেক্সের কাজ চলছে। মাল্টিপ্লেক্সটির মালিক চলচ্চিত্র প্রযোজক মোহাম্মদ ইকবাল। তিনি জানিয়েছেন এটি আগামী ঈদে দর্শকের জন্য চালু করা হবে।
তবে চলচ্চিত্র পরিবেশক ও প্রদর্শক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, ৩টি নতুন হল চালু হলেও বন্ধ হয়ে আছে দুই শতাধিক সিনেমা হল।
দুই শতাধিকের মধ্যে বন্ধ থাকা পাবনার সুজানগরের ‘নন্দিতা’, বগুড়ার ‘ঝংকার’ , কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর ‘দীপু সিনেমা’, কুমিল্লার ‘পূর্ণিমা’, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের ‘ ভাই ভাই সিনেমা’ হলের মালিকরা নাগরিক প্রতিদিনকে জানিয়েছেন যে, তাদের প্রেক্ষাগৃহ প্রায় বছরই বন্ধ থাকে। লোকসানের বোঝা টানতে গিয়ে তারা আর্থিকভাবে সমস্যাগ্রস্ত। এইসব সিনেমা হল টিকিয়ে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্ঠা করেও তারা হিমশিম খাচ্ছেন। তাই বন্ধ হয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনো গন্তব্য নেই এসব হলের।
এ প্রসঙ্গে এ প্রসঙ্গে ঢাকার লায়ন সিনেমা হলের মালিক ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির নেতা আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল বলেন, ‘ নতুন সিনেমার খরা চলছে। তাই হল টিকিয়ে রাখা যাচ্ছেনা। সারা বছর তো লোকসান দেয়া সম্ভব নয়। এইসব হল বন্ধ হলেও আমরা কিছুই করতে পারছিনা।’