"প্রথমবারের মতো দেশের মাটিতে আন্তর্জাতিক মানের ক্যান্সার চিকিৎসা।
দেশের স্বাস্থ্য সেবায় নতুন অধ্যায়, বিশেষায়িত চিকিৎসা নিয়ে আশা জাগাচ্ছে নতুন এই ইউনিট।
"প্রথমবারের মতো দেশের মাটিতে আন্তর্জাতিক মানের ক্যান্সার চিকিৎসা।"
বিশেষায়িত চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো উদ্বোধন হলো বিশেষায়িত ক্যান্সার ইউনিট। রাজধানীর শেরে বাংলা মেডিকেল সেন্টারে স্থাপিত এই ইউনিটটি সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রযুক্তি ও আধুনিক চিকিৎসা সেবায় সজ্জিত। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় নির্মিত এই ইউনিটটি দেশের ক্যান্সার চিকিৎসায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
লোকাল গল্প: এক মায়ের আশা
ফরিদপুর জেলার গৃহবধূ লায়লা বেগম (৪৫) দীর্ঘদিন ধরে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত। রাজধানীতে চিকিৎসা নিতে আসা তার পরিবারের জন্য ছিল কষ্টকর। নতুন এই ইউনিট চালু হওয়ায় তার চোখে নতুন আশার আলো ফুটেছে। তিনি বলেন, "এখন ঢাকাতেই উন্নত চিকিৎসা পাবো, বিদেশে যাওয়ার চিন্তা করতে হবে না।"
আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার
এই বিশেষায়িত ইউনিটে রয়েছে রোবোটিক সার্জারি, রেডিয়েশন থেরাপি, ইমিউনোথেরাপি এবং ন্যানো-মেডিসিন প্রযুক্তি। উন্নত দেশগুলোতে ব্যবহৃত অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে সজ্জিত হওয়ায়, চিকিৎসার মান হবে দ্রুত এবং নিরাপদ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ইউনিট চালু হওয়ার ফলে প্রতিবছর হাজার হাজার রোগী উন্নত চিকিৎসা পাবে, যা আগে শুধুমাত্র বিদেশে সম্ভব ছিল।
সামাজিক প্রভাব: স্বাস্থ্যসেবার নতুন ধারা
দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও এখন এই আধুনিক চিকিৎসার সুবিধা নিতে পারবে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের জন্য রয়েছে বিশেষ হেল্পলাইন এবং ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে এমন আরও পাঁচটি ইউনিট দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা হবে।
প্রশ্ন থেকে যায়: সবার জন্য কি এই সেবা প্রাপ্য?
নতুন ইউনিট উদ্বোধনের পরেও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, এই সেবা কি সত্যিই সবার জন্য প্রাপ্য হবে? গ্রামীণ এলাকার দরিদ্র জনগণ কি সমান সুযোগ পাবে? এসব প্রশ্নের উত্তর সময়ই বলে দেবে।
বিশেষায়িত ক্যান্সার ইউনিট দেশের স্বাস্থ্যখাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তবে এই সুযোগ সবার কাছে পৌঁছানোই হবে প্রকৃত সফলতা। দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যদি এই চিকিৎসার সুবিধা পায়, তবেই বলা যাবে, বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থে ক্যান্সার চিকিৎসায় এগিয়ে যাচ্ছে।