পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সদরঘাট ছাড়াও ঢাকার আরও দুটি স্থান থেকে বিশেষ লঞ্চ সার্ভিসের ব্যবস্থা করেছে বিআইডব্লিউটিএ। সোমবার (১৬ মার্চ) বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) এ তথ্য জানিয়েছেন।
নৌপথে দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত বছিলা লঞ্চঘাট থেকে ছয়টি ও শিমুলিয়া টুরিস্ট ঘাট থেকে তিনটি লঞ্চ বিভিন্ন রুটে চলাচল করবে।
কর্মকর্তারা জানান, তবে সদরঘাট থেকে দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোর পূর্ব নির্ধারিত যাত্রা যথারীতি ঠিক থাকবে। কোনো লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতে পারবে না। যাত্রী পূর্ণ হয়ে গেলেই লঞ্চগুলোকে ঢাকা নৌবন্দর ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
লঞ্চ যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে ঢাকা নৌবন্দর সহ শিমুলিয়া ও বসিলা লঞ্চঘাটে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকা নৌবন্দর থেকে বিশেষ সার্ভিসের মাধ্যমে বিভিন্ন নৌপথে যাত্রী পরিবহন করবে সরকার অনুমোদিত লঞ্চগুলো।
আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর ২০২৬ উপলক্ষে ঘরমুখো যাত্রীদের নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও নির্বিঘ্ন নৌযাত্রা নিশ্চিত করতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিআইডব্লিউটিএ এ বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
ঢাকা নদী বন্দর (সদরঘাটে) অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ কমানো ও যাত্রীদের বিকল্প নৌপথে সহজ যাতায়াতের সুবিধার্থে এ বছর বছিলা ব্রিজ সংলগ্ন লঞ্চঘাট (ব্রীজের নিচে) ও পূর্বাচল কাঞ্চন ব্রীজ সংলগ্ন শিমুলিয়া টুরিস্ট ঘাট থেকে বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস চালুর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ঈদের আগে বছিলা লঞ্চঘাট থেকে মঙ্গলবার সকাল ৭টায়, সাড়ে ৮টা, ১১টা, ১২টা, দেড়টা ও সাড়ে পাঁচটায় মোট ছয়টি লঞ্চ ছেড়ে যাবে। শিমুলিয়া টুরিস্ট ঘাট থেকেও সকাল ৮টা, ৯টা, ও সন্ধ্যা ৭টায় মোট চারটি লঞ্চ ছেড়ে যাবে।
ঘাট গুলোতে লঞ্চের নাম ও ছেড়ে যাওয়ার সময় লিখিতভাবে যাত্রীদের জন্য বিআইডব্লিউটিএ-এর ব্যানারে প্রদর্শন করা আছে। বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা জানান, ঈদযাত্রায় যাত্রীসেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সদরঘাট এলাকায় প্রবীণ ও মহিলা যাত্রীদের ব্যবহার্য মালামাল ও ব্যাগ (ব্যবসায়িক পণ্য ব্যতীত) বহনের জন্য আগামী ১৭ মার্চ ২০২৬ থেকে ২৮ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত ১২ দিন টার্মিনাল থেকে লঞ্চ পর্যন্ত বিনামূল্যে কুলি সেবা প্রদান করা হবে।
একই সময় অসুস্থ ও শারীরিক প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য সদরঘাট ও বরিশাল নদী বন্দরে হুইল চেয়ার সেবাও প্রদান করা হবে বলে বিআইডব্লিউটিএ-এর কর্মকর্তারা জানান।