বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতের নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের আস্থা সংকটে পড়বে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টায় দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মাত্র দেড় মাস পরই যদি প্রথম দুটি উপনির্বাচনের চিত্র এমন হয়, তাহলে সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ অন্যান্য নির্বাচনে ভোটারদের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন কীভাবে নিশ্চিত হবে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।’
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি বলেন, ‘আমরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। যেসব কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়া হচ্ছে এবং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে, সেসব প্রিজাইডিং অফিসারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘যেখানে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে, সেসব কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করে পুনরায় ভোটের ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় জনগণ জোরপূর্বক ও একতরফা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে ১০ থেকে ১২টি কেন্দ্রের একটি তালিকা আমাদের হাতে রয়েছে, যেখানে জাল ভোট ও এজেন্ট বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। প্রেস ব্রিফিং শেষে এসব কেন্দ্রের তালিকার কপি সাংবাদিকদের দেওয়া হবে।’
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি বলেন, ‘দুটি আসন মিলিয়ে প্রায় ৩০০টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। ভোটগ্রহণ এখনো চলমান ও বিকেল পর্যন্ত সময় বাকি আছে। তবে সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আমরা যে তথ্য পেয়েছি, তাতে অনিয়মের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নজর রাখলেই এই দুই আসনের বাস্তব চিত্র দেখতে পাবেন। তাই গুরুতর অনিয়ম হওয়া কেন্দ্রগুলোর ভোট স্থগিতের দাবি জানাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘দলীয় সন্ত্রাসীরা সংঘবদ্ধভাবে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করছে ও ভুয়া ভোট দেওয়ার চেষ্টা করছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে, ভোটার নয় এমন একজন ব্যক্তি কেন্দ্রে ঢুকে ভোট দেওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে পারেনি।’
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি বলেন, ‘এসব ঘটনার পরও কিভাবে সেখানে ভোটগ্রহণ চলতে পারে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। সন্ত্রাসীরা ভোটারদের, বিশেষ করে নারী ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে, ফলে অনেকেই ভোট দিতে সাহস পাচ্ছেন না।’
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমরা প্রধান নির্বাচন কমিশনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি। একইসঙ্গে বগুড়া ও শেরপুরের নির্বাচনী এলাকায় দায়িত্ব পালনরত রিটার্নিং অফিসারদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’