রয়টার্সের প্রতিবেদন
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার মেয়াদের মাঝপথেই শুক্রবার (২৪ জুলাই) পদত্যাগ করবেন। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতির মুখপাত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পর আদালতে দণ্ডিত হয়ে আত্মসমর্পণের জন্য দেশে ফেরার ঘোষণা দেওয়ার কয়েক দিন পরই এ পদত্যাগের খবর এল।
রাষ্ট্রপতির মুখপাত্র পদত্যাগের কারণ জানাননি। তবে বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র জানিয়েছে, শেখ হাসিনার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কারণে সরকার সাহাবুদ্দিনকে পদত্যাগের জন্য চাপ দিয়েছে। সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন।
সূত্রগুলোর একজনের দাবি, মো. সাহাবুদ্দিন মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তার পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানান। সংবেদনশীল বিষয় হওয়ায় তিনটি সূত্রই নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছে।
তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মুখপাত্ররা এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি।
মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। গত ডিসেম্বরে রয়টার্সকে তিনি জানিয়েছিলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর পদত্যাগের পরিকল্পনা করছেন। এর আগে শেখ হাসিনা সরকারের স্থলাভিষিক্ত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিনি অনেকটা সাইডলাইনে ঠেলে দেওয়া হয়েছিলো।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সরওয়ার আলম জানান, সংবিধান অনুযায়ী, স্পিকারের কাছে স্বাক্ষর করা পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পরই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ কার্যকর হবে। স্পিকার শুক্রবার থাইল্যান্ড থেকে দেশে ফেরার পর রাষ্ট্রপতি তার পদত্যাগপত্র জমা দেবেন।
মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার অন্তর্বর্তী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
৭৬ বছর বয়সী মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।