ক্ষমতার মেয়াদ নির্ধারণে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ
প্রস্তাবের পটভূমি
সম্প্রতি একটি নাগরিক সংলাপে প্রস্তাব দেওয়া হয় যে, প্রধানমন্ত্রীর পদে সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালনের মেয়াদ ১০ বছরে সীমাবদ্ধ করা উচিত। প্রস্তাবটি উঠে আসে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার স্থিতিশীলতা এবং নির্বাহী ক্ষমতায় ভারসাম্য আনার যুক্তিতে। সেখানে রাজনৈতিক দল, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
ভিন্ন ভিন্ন মতামত
বেশ কয়েকটি বিরোধী দল প্রস্তাবটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও সরকারপন্থী অংশগ্রহণকারীরা বিষয়টিকে ‘অপরিপক্ব’ এবং ‘ভোটের মাধ্যমে জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে’ বলে মত দিয়েছেন। একটি অংশ বলছে, মেয়াদসীমা থাকলে রাজনৈতিক সংস্কৃতি উন্নত হতে পারে এবং নেতৃত্বে নতুন মুখ আসার সুযোগ বাড়বে। অন্য অংশ মনে করছে, এটি কার্যত জনগণের ভোটাধিকার হরণ এবং জনপ্রিয় নেতাদের অপসারণের এক ধরনের কৌশল।
বিশ্লেষকদের মত
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. রফিকুল ইসলাম বলেন,
“এই প্রস্তাব গণতন্ত্রের চর্চায় একটি প্রগতিশীল পদক্ষেপ হতে পারে, তবে তা জনগণের স্বার্থে হলে এবং সর্বদলীয় আলোচনার ভিত্তিতে কার্যকর হলে তবেই সফলতা আসবে।”
আরেকজন বিশ্লেষক মনে করেন,
“সংবিধান সংশোধনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য ছাড়া পদক্ষেপ নিলে তা উল্টো বিভাজন তৈরি করতে পারে।”
পরবর্তী ধাপ
আলোচনায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও অংশগ্রহণকারীরা সম্মত হন যে বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা প্রয়োজন। পরবর্তীতে পৃথক কর্মশালা এবং জাতীয় পরামর্শ সভার মাধ্যমে মতামত গ্রহণ করা হতে পারে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নির্ধারণ নিয়ে আলোচনায় যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে, তা দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন বিতর্ক উন্মোচন করেছে। ভবিষ্যতে বিষয়টি কেবল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি সাংবিধানিক বিতর্ক হিসেবেও দেখা দিতে পারে।