জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও পরিবেশগত ভারসাম্য নিশ্চিত করতে পর্যটকবাহী
নিষেধাজ্ঞার কারণ ও কার্যক্রম
রোববার (২২ জুন) রাতে জেলা প্রশাসক (রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ রেজাউল করিম এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, হাওরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ করা হয়েছে, ওয়াচ টাওয়ার ও তার পরিসরের এলাকায় কোনো পর্যটকবাহী হাউসবোটই প্রবেশ করতে পারবে না, যতক্ষণ না প্রশাসন কোনো নতুন নির্দেশনা জারি করে।
পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর প্রভাব
পঞ্চম বারের মতো বর্ষার মৌসুমে হাওরের জলজ প্রাণী ও পাখিদের প্রজননকাল চলছে। এই সময় অতিরিক্ত নৌযান চলাচল তাদের স্বাভাবিক আবাসস্থলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।
পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংগঠনের সভাপতি কাশমির রেজা বলেন, “গত ২০ বছরে হাওরের প্রায় ৭০ শতাংশ জীববৈচিত্র্য হারিয়ে গেছে। পর্যটন কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রণে আনাই সমাধান।”
স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য
জেলা প্রশাসন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যারা এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করবেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি সংলগ্ন এলাকায় অন্যান্য পর্যটন স্থানে গিয়েও পূর্বে জারি নির্দেশনা সতর্কতার সঙ্গে পালন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
টাঙ্গুয়ার হাওরে হাউসবোট চলাচলে এই পদক্ষেপ এক জরুরি প্রাকৃতিক সংরক্ষণ কার্যক্রমের অংশ। সর্তকভাবে পর্যটন পরিচালনা না করলে প্রতিবছর অনিবার্যভাবে হাওরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যে বিপর্যয় নেমে আসে। প্রশাসনের বর্তমান পদক্ষেপকে পরিবেশবাদীরা সময়োপযোগী ও গুরুদায়িত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন।