জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো, ডেইলি স্টারে হামলা ও প্রবীণ সাংবাদিক নূরুল কবীরকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছনার প্রতিবাদ জানিয়েছে পাকিস্তান ফেডারেল ইউনিয়ন অব জার্নালিস্টস (পিএফইউজে)। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয় বলে দ্য ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়, পিএফইউজে বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যমকে লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক সহিংসতা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। পিএফইউজে সভাপতি আফজাল বাট ও মহাসচিব আরশাদ আনসারী শুক্রবার যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ভয় দেখিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখ বন্ধ করা সাংবিধানিক মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসনের সরাসরি লঙ্ঘন।
পিএফইউজে বিবৃতিতে পত্রিকা দুটির অফিসে এই আক্রমণ এবং নিউএজের সম্পাদক প্রবীণ সাংবাদিক নূরুল কবীরের ওপর ‘নিন্দনীয় শারীরিক আক্রমণ’-এর নিন্দা জানানো হয়েছে।
দ্য ডন লিখেছে, পিএফইউজে বাংলাদেশে ১০০ জনেরও বেশি সাংবাদিককে বিনা বিচারে আটক রাখার খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, তাদের অবিলম্বে এবং নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে।
পিএফইউজের বিবৃতিতে বলা হয়, অপরাধীরা জবাবদিহির বাইরে রয়ে গেছে। অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার সকল ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং দ্রুত তদন্তের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তানি সাংবাদিকদের সংগঠনটি।
বিবৃতিতে আহ্বান জানানো হয়েছে, দায়মুক্তির সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে অপরাধীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এতে বলা হয়, যেকোনো গণতান্ত্রিক সমাজে গণমাধ্যমকে থামিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে সহিংসতা ও হয়রানি অগ্রহণযোগ্য।
প্রসঙ্গত, ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সিঙ্গাপুরে হাসপাতালে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্রের মৃত্যুর খবরে গত ১৮ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে অস্ত্র, লাঠি ও দাহ্য পদার্থ নিয়ে কারওয়ানবাজার এলাকায় প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলা চালানো হয়। ওইদিন লাঞ্ছনার শিকার হন সাংবাদিক নূরুল কবীর।