বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শোক নেমে এসেছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
নরেন্দ্র মোদি
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই শোকবার্তা প্রকাশ করেন তিনি।
শোকবার্তায় তিনি জিয়াকে বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি বলেন, ‘ঢাকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। তার পরিবার ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা। এই শোক সইবার শক্তি সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা যেন তার পরিবারকে দান করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশটির উন্নয়ন এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদারে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
নিজের স্মৃতিচারণ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৫ সালে ঢাকায় তার সঙ্গে আমার উষ্ণ সাক্ষাতের কথা আমি স্মরণ করছি। আমরা আশা করি, তার দৃষ্টিভঙ্গি ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার আমাদের দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্বকে ভবিষ্যতেও পথ দেখাবে।’
শোকবার্তার শেষাংশে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘তার আত্মা শান্তিতে থাকুক।’
ইসহাক দার
এ ছাড়া আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক্স হ্যান্ডেলে এক শোক বার্তায় ইসহাক দার লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শোকসন্তপ্ত মৃত্যুতে আন্তরিক সমবেদনা। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাকে জান্নাতের উচ্চ স্থান দান করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্য ধারণ করুন। আমিন।’
লি কিয়াং
চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংও গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন । মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পাঠানো এক শোকবার্তায় তিনি এ শোক জানান। ঢাকায় চীন দূতাবাস এ তথ্য জানিয়েছে।
লি কিয়াং বলেন, ‘খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের একজন প্রবীণ রাজনীতিক এবং চীনা জনগণের একজন পুরোনো বন্ধু। তার প্রধানমন্ত্রীত্বকালে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্ব, সমতা ও পারস্পরিক কল্যাণের ভিত্তিতে সমন্বিত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখেছে।’
চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নয়নে খালেদা জিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা উল্লেখ করে চীনের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সম্পর্ক জোরদারে তার ভূমিকা চীনা পক্ষ উচ্চভাবে মূল্যায়ন করে।
যুক্তরাষ্ট্র
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রও গভীর শোক প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই শোকবার্তা প্রকাশ করা হয়।
ইউএস এম্বাসি ঢাকার ফেসবুক পেজে লেখা হয়েছে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করছে যুক্তরাষ্ট্র। মিসেস জিয়া তার দেশের আধুনিক ইতিহাস গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন, এবং তার নেতৃত্ব বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে বিশেষ অবদান রেখেছে।
ইইউ
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। মঙ্গলবার বেলা ১০টা ০৪ মিনিটে ঢাকাস্থ ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এই শোক জানানো হয়েছে।
শোকবার্তায় বলা হয়, ‘বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমরা বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।’
জার্মানি
শোক জানিয়েছে জার্মানিও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স ও ফেসবুকে তারা একটি শোকবার্তা পোস্ট করেছে।
পোস্টে দেশটি লিখেছে, বাংলাদেশের প্রথম ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, সাবেক ফার্স্ট লেডি এবং দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে জার্মান দূতাবাস গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
জার্মানি কয়েক দশক ধরে তার সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে সম্পৃক্ততার কথা স্মরণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০০৪ সালে তৎকালীন জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জশকা ফিশারের ঢাকা সফরকালে তার সঙ্গে বৈঠক, পাশাপাশি ২০১১ সালে জার্মান প্রেসিডেন্ট ক্রিশ্চিয়ান ভুলফের রাষ্ট্রীয় সফরের সময় তার সঙ্গে সাক্ষাৎ। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে জার্মানির ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিদের সঙ্গে আরও একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এই শোকের মুহূর্তে জার্মানি জাতীয় জীবনে খালেদা জিয়ার অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে এবং তার পরিবার, দল ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে।
জার্মানি দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। তিনি শান্তিতে বিশ্রাম নিক।
আসিফ আলী জারদারি
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের এক্স অ্যাকাউন্টের এক পোস্টে লেখা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি তার পরিবারের সদস্যদের এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন।’
পোস্টে আরও বলা হয়, ‘তিনি (জারদারি) বলেন , তার (খালেদা জিয়া) নেতৃত্ব ও অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে। মহান আল্লাহ যেন তার আত্মাকে শান্তিতে রাখেন।’
শেহবাজ শরীফ
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
মঙ্গলবার এক শোক বার্তায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিএনপির চেয়ারপার্সন এবং বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত।
শেহবাজ শরীফ বলেন, বাংলাদেশের জন্য আজীবন তিনি অবদান রেখে গেছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে তিনি বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। জিয়া পাকিস্তানের একজন নিবেদিত বন্ধু ছিলেন।
তিনি বলেন, আমার সরকার এবং পাকিস্তানের জনগণ এই দুঃখের মুহূর্তে বাংলাদেশের জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। এই কঠিন সময়ে আমাদের চিন্তাভাবনা এবং প্রার্থনা তার পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে রয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা তার আত্মার শান্তি কামনা করুন।