দেশজুড়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দামামা বাজছে। তবে ভোটের মাঠের লড়াইয়ের আগেই আলোচনার তুঙ্গে প্রার্থীদের জমা দেওয়া সম্পদের হিসাব বা হলফনামা। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক নেতাদের বার্ষিক আয় অনেক হেভিওয়েট এবং বর্ষীয়ান নেতাকেও ছাপিয়ে গেছে। হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, আয়ের দৌড়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কিংবা জামায়াতের আমিরের চেয়েও অনেক বেশি এগিয়ে আছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূর কিংবা এনসিপি’র সারজিস আলমের মতো নবীনরা।
পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে ‘ট্রাক’ প্রতীকে নির্বাচন করছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর। তার নির্বাচনী হলফনামা বলছে, রাজনীতির মাঠে নবীন হলেও আয়ের অংকে তিনি অনেক ঝানু রাজনীতিকের চেয়ে এগিয়ে। নূরের বার্ষিক আয় ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকার বেশি। যার সিংহভাগই আসে ব্যবসা থেকে। অথচ তার তুলনায় বিএনপির হেভিওয়েট নেতা তারেক রহমানের বার্ষিক আয় মাত্র ৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। এই দৌড়ে পিছিয়ে আছেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানও, যার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে মাত্র ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
বার্ষিক আয়ের তুলনা:
নুরুল হক নূর: ২০.৪০ লাখ টাকা
নাহিদ ইসলাম: ১৬ লাখ টাকা
তারেক রহমান: ৬.৭৬ লাখ টাকা
ডা. শফিকুর রহমান: ৩.৬০ লাখ টাকা
শুধু নূরই নন, আয়ের চমক দেখাচ্ছেন এনসিপির সমন্বয়করাও। পঞ্চগড়-১ আসন থেকে লড়াই করা সারজিস আলমের বার্ষিক আয় রেকর্ড ২৮ লাখ ৫ হাজার টাকা। অন্যদিকে কুমিল্লা-৪ থেকে প্রার্থী হওয়া হাসনাত আব্দুল্লাহর বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে সাড়ে ১২ লাখ টাকা। তবে আয়ে এগিয়ে থাকলেও মোট সম্পদের হিসেবে এখনো এগিয়ে আছেন প্রবীণ নেতারাই। তারেক রহমানের সম্পদ যেখানে প্রায় ২ কোটি টাকা, সেখানে সারজিস আলমের সম্পদ মাত্র ৩৩ লাখ টাকার কিছু বেশি।
আলোচনায় আছেন ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারাও। পেশায় চিকিৎসক এই প্রার্থীর বার্ষিক আয় ৭ লাখ টাকার বেশি। কোনো কৃষিজমি বা ফ্ল্যাট না থাকলেও স্বচ্ছ এই হলফনামায় তিনি দেখিয়েছেন তার নগদ টাকা ও পাউন্ডের হিসাব।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন প্রজন্মের নেতারা পেশা বা ব্যবসাকে যেভাবে হলফনামায় আনছেন, তা ইতিবাচক। তবে আয়ের উৎস এবং কর প্রদানের হিসাবগুলো ভোটাররা যাচাই করবেন, এটাই নির্বাচনের সৌন্দর্য।
হলফনামার এই কাগজের হিসাব ভোটের বাক্সে কতটুকু প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে হেভিওয়েটদের তুলনায় তরুণদের এই বিশাল আয় এখন চায়ের কাপে ঝড় তুলছে। কাগজে-কলমে সম্পদের এই পাহাড় কিংবা আয়ের এই ব্যবধান, সাধারণ মানুষের কাছে কতটুকু গ্রহণযোগ্যতা পাবে, তা জানা যাবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ফলাফলের মাধ্যমে।