ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহিদ ওসমান হাদি হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মিরপুর এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাজুল ইসলাম চৌধুরী (বাপ্পী) কলকাতায় দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করে আসছেন। তবে, সরেজমিনে তাজুলের অবস্থান করা এলাকায় গিয়ে তাকে পাওয়া না গেলেও তার দলীয় কর্মীদের সেখানে পাওয়া যায়।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) চ্যানেল ২৪ বরাতে জানা যায়, তাজুল ইসলাম চৌধুরীর (বাপ্পী) ইতিমধ্যেই পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। যদিও স্থানীয় নারায়নপুর থানায় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা আটকের বিষয়টি স্বীকার করেননি।
হাদি হত্যার আসামিরা ভারতে রয়েছেন এমন তথ্য ভারত সরকার স্বীকার না করলেও চ্যানেল ২৪ এর প্রতিবেদনে জানা যায়, কলকাতার রাজারহাট, ওয়েস্ট বেড়াবেড়ি, মেঠোপাড়া এলাকার ঝনঝন গলির চার তলা একটি বিল্ডিংয়ের প্রথম তলার এ-থ্রি ফ্ল্যাটে এতদিন আত্মগোপনে ছিলেন তাজুল। সেখানে রয়েছেন আওয়ামী লীগের আরো প্রায় চার থেকে পাঁচজন কর্মী, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই রয়েছে একাধিক মামলা।
স্থানীয়সূত্রে জানা যায়, কলকাতার ওই এলাকায় পুলিশ পরিচয় দিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন হাদি হত্যার নির্দেশদাতা। প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে এই ঠিকানায় তাদের অবস্থান। ঠিকানায় সরেজমিনে পৌঁছালে তাজুলের সঙ্গে ফ্ল্যাট শেয়ার করা দলীয় কর্মী ও শেরে বাংলা থানা এলাকার যুবলীগ নেতা মফিকুর রহমান উজ্জল, মহম্মদ সাজিবুল ইসলাম ও মহম্মদ ওমর শরীফকে পাওয়া যায়।
তারা জানান, তাজুল এই মুহূর্তে ফ্ল্যাটে নেই। আপনি নম্বর দিয়ে যান, তাকে আপনাকে ফোন করতে বলবো। আমাদের বিরুদ্ধে হাদি হত্যা মামলার কোনোরকম মামলা নেই, বাপ্পী ভাইয়ের (তাজুল ইসলাম চৌধুরী) বিরুদ্ধে আছে, তবে সেটা মিথ্যা মামলা।
এর আগে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম জানান, ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডিবির তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মিরপুর এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাজুল ইসলাম চৌধুরী (বাপ্পী)। সরাসরি গুলি করেন ফয়সাল করিম এবং তাকে সহযোগিতা করেন আলমগীর হোসেন। এই তিনজন বর্তমানে ভারতে পালিয়ে আছেন।