বিভিন্ন থানায় দায়িত্বে থেকে ঘুষ-লেনদেন ও ক্ষমতার অপব্যবহারে অভিযুক্ত, অবশেষে বরখাস্ত ও বদলি
মাসুদ রানা গত এক দশকে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলার অন্তত ৫টি থানায় কর্মরত ছিলেন। এসব থানায় তিনি ওসি, পরিদর্শক (তদন্ত) ও পরে এসআই হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল
তদন্ত প্রতিবেদন: প্রমাণ মেলে ৭টি অভিযোগে
পুলিশ সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও বিভাগীয় পর্যবেক্ষণে ২০২৪ সালের শেষদিকে মাসুদ রানার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়:
তিনি পেশাদার আচরণ লঙ্ঘন করেছেন এবং ব্যক্তিস্বার্থে দায়িত্বের অপব্যবহার করেছেন। শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দুর্নীতির অভিযোগ সত্য।
এতে ৭টি গুরুতর অভিযোগে প্রমাণ মেলায় তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।
শাস্তিমূলক ব্যবস্থা: অবনমন, বরখাস্ত ও বদলি
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় মাসুদ রানাকে প্রথমে পদাবনতি করে ওসি থেকে এসআই করা হয়। পরে অভ্যন্তরীণ আদেশে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার একটি প্রত্যন্ত থানায় বদলি করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র বলেন:
কোনো সদস্যই আইনের ঊর্ধ্বে নন। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নিতে আমরা বাধ্য।
প্রতিক্রিয়া: স্বস্তি ও প্রশ্ন
বহুদিন ধরেই মাসুদ রানার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, কিন্তু প্রভাবশালী মহলে সখ্যতার কারণে কেউ কিছু বলতে সাহস পেত না বলে অভিযোগ অনেক সহকর্মীর। একজন সাবেক ওসি বলেন, “দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হলে নিচের স্তরে বার্তা যায় যে পুলিশ পেশা নয়, দায়িত্ব।” অন্যদিকে, মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি
শুধু বরখাস্ত বা বদলি নয়, দুর্নীতির জন্য ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়ায় আনা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার না করতে পারে।