ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ১৮১টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে এ তথ্য জানা যায়।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন মোট দুই লাখ ৩২ হাজার ৬৩৫ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছেন এক লাখ ৩৬ হাজার ৪১২ ভোট। ৯৬ হাজার ২২৩ ভোটের ব্যবধানে মির্জা ফখরুল বিজয়ী হয়েছেন।
এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী খাদেমুল ইসলাম তিন হাজার ৮৯২ ভোট পেয়েছেন। এই আসনে মোট চার হাজার ৪৩১টি পোস্টাল ভোট সংগৃহীত হয়েছে।
জয়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই অর্জনকে ঠাকুরগাঁওয়ের সাধারণ মানুষের প্রতি উৎসর্গ করেন। তিনি বলেন, ‘যেকোন বিজয়ই মূলত জনগণের। আমি ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। তারা ভোটের মাধ্যমে আমাকে আবারও ঋণের বাধনে বাধলেন। এখন আমার প্রধান চিন্তা হলো কীভাবে এই ঋণ শোধ করব। আমি আমার কাজের মধ্য দিয়ে তাদের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই।’
নিজের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিএনপি মহাসচিব জানান, এই অঞ্চলের প্রধান সমস্যা কর্মসংস্থান। এলাকার শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে প্রথম কাজ। ঠাকুরগাঁও যেহেতু কৃষিপ্রধান এলাকা, তাই এখানে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতির চাকা সচল করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণায় আমার অনেকগুলো অঙ্গীকার ছিল, পর্যায়ক্রমে আমি তার প্রতিটি পালন করার চেষ্টা করব।’
দেশ পরিচালনা ও রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি দেশকে একটি গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। দারিদ্র্য দূরীকরণই হবে মূল লক্ষ্য।’
তিনি জানান করেন, ইতিপূর্বে ২০১৬ সালে ভিশন ২০৩০ ও ২০২৩ সালে ৩১ দফার মাধ্যমে রাষ্ট্র মেরামত ও রূপান্তরের যে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছিল, সেই আলোকেই কাজ করবে তাদের দল। অর্থনীতি সচল করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার তাদের মূল অগ্রাধিকার।
এদিকে, ঠাকুরগাঁওয়ের অন্য দুটি আসনেও জয়ের ধারা বজায় রেখেছে বিএনপি। ঠাকুরগাঁও-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. আব্দুস সালাম ও ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বিজয়ী হয়েছেন। পুরো জেলায় দলটির নিরঙ্কুশ বিজয়ে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।