বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছেন রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ভাষণ দেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমির শফিকুর রহমান। এর আগে এনসিপির প্রধান নাহিদ ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক ভাষণ দেন। এই বছর জাতির উদ্দেশে ভাষণের জন্য নির্বাচন কমিশন উদ্যোগ নিলেও মাত্র আটটি দল আগ্রহ প্রকাশ করে।
জাতীয় নির্বাচনের আগে জাতির উদ্দেশে রাজনৈতিক নেতাদের ভাষণের চল শুরু হয়েছিল ১৯৯১ সাল থেকে। সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সরকারের পতনের পর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হয়েছিল, যাদের প্রধান দায়িত্ব ছিল একটি সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করা।
সেই সরকারের সময় প্রথম বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারের মাধ্যমে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাসহ নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।
এরপর ১৯৯৬ সালে বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান ও ২০০১ সালে বিচারপতি লতিফুর রহমানের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও দুই নেত্রীসহ বিভিন্ন দলের নেতারা এই সুবিধা পান। সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছিলেন রাজনৈতিক নেতারা।
এরপর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত হওয়া তিনটি নির্বাচনে রাজনৈতিক নেতাদের এই সুযোগ দেওয়া হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের রাজনীতি আবর্তিত ছিল খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনাকে ঘিরে। তাদের মধ্যে ৮০ বছর বয়সে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেছেন গত ৩০ ডিসেম্বর। সে পটভূমিতে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে এসেছেন তারেক রহমান। আর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দেশে ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন এবং এখনো সেখানেই অবস্থান করছেন তিনি।
এবার রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর নিষেধাজ্ঞার কারণে আওয়ামী লীগ ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জামায়াতে ইসলামীর আমি শফিকুর রহমানসহ বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা এবার নির্বাচনী ভাষণ দিচ্ছেন বেতার-টেলিভিশনে।