রাজধানীর আসাদগেট এলাকায় ঝটিকা মিছিল করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। রোববার (১৭ মে) ভোরের আলো ফুটতেই হঠাৎ করে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এই সড়কে তাদের আকস্মিক এই শো-ডাউন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আগাম তথ্য পাওয়ার সক্ষমতাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটের এই ঝটিকা মিছিলে প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন। সকাল ঠিক ৮টার দিকে আসাদগেট আড়ং শোরুমের সামনে থেকে একটি ব্যানারসহ হঠাৎ করে মিছিলটি বের হয়। প্রথমে ২০-২৫ জন নিয়ে শুরু হলেও মুহূর্তের মধ্যে চারপাশ থেকে আরও কিছু লোক এসে মিছিলে যোগ দেয়। মিছিলটি মিরপুর রোড ধরে আসাদগেটের কাছাকাছি গিয়ে দ্রুত শেষ হয়।
ব্যস্ততম এই সড়কে সাধারণত সকাল থেকেই পুলিশের টহল থাকে। কিন্তু রোববারের এই ঘটনার সময় সেখানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিষিদ্ধ সংগঠনের এই ঝটিকা মিছিলগুলো এখন আর দীর্ঘ সময় ধরে চলে না। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পৌঁছানোর আগেই পুরো কার্যক্রম শেষ করার একটি নতুন কৌশল বেছে নিয়েছে তারা।
আসাদগেট এলাকাটি মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি ও মিরপুর রোডের একটি সংযোগস্থল। মিছিল শেষে গলি পথ দিয়ে দ্রুত লুকিয়ে পড়ার সুযোগ থাকায় এই স্পটটিকে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়া নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট স্পটে জড়ো হওয়া এবং ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে ব্যানার গুটিয়ে সটকে পড়ার এই ছকটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা গোপন মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়েছে বলে সন্দেহ করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেসবাহ উদ্দিন নাগরিক প্রতিদিনকে বলেন, ‘হঠাৎ করেই আসাদগেটে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী জড়ো হয়ে একটি মিছিল বের করে। তবে মিছিলটি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তারা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।’
ঘটনাস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি উল্লেখ করে ওসি আরও জানান, সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয় তথ্যের ভিত্তিতে মিছিলকারীদের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ার পর রাজধানীর বুকে এভাবে ব্যানারসহ প্রকাশ্য দিবালোকে অর্ধশতাধিক মানুষের মিছিল করা সাধারণ মানুষের মনে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজধানীর এত গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্টে সকাল ৮টায় মিছিলের প্রস্তুতি চলছে—এমন কোনো আগাম তথ্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে না থাকাটা বড় ধরনের তদারকি ঘাটতি নির্দেশ করে। এই ঝটিকা মিছিল কি কেবলই নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার চেষ্টা, নাকি এর পেছনে বড় কোনো নাশকতার নীল নকশা তৈরি হচ্ছে—তা খতিয়ে দেখা জরুরি।