বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় ১ জুলাই প্রকাশিত ‘জামায়াতের তুরস্ক কানেকশন এবং একাত্তরের পাপ’ শীর্ষক প্রতিবেদনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, অ্যারোমেট সার্ভিস লিমিটেডের চেয়ারম্যান শাহরিয়ার নাসের জাহেদী জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন—এমন দাবি সম্পূর্ণ অসত্য। এ দাবির পক্ষে কোনো তথ্য-প্রমাণও উপস্থাপন করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, তুরস্কের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একে পার্টি) সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর কোনো গোপন সম্পর্ক নেই। তুরস্ক বাংলাদেশের একটি বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র এবং মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দেশ। বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক দল, কূটনৈতিক প্রতিনিধি বা গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে সৌজন্যমূলক ও প্রকাশ্য যোগাযোগ রাখা একটি রাজনৈতিক দলের জন্য স্বাভাবিক বিষয়। এর বাইরে প্রতিবেদনে উত্থাপিত সম্পর্কের অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।
অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, তুরস্কের সঙ্গে ব্যবসা করা বাংলাদেশিদের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী পরিচালিত মাদ্রাসা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অর্থায়নের যে দাবি করা হয়েছে, সেটিও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এমন গুরুতর অভিযোগের পক্ষে কোনো তথ্য, দলিল বা প্রমাণ প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য বৃদ্ধির বেশির ভাগ সুবিধা জামায়াত নিচ্ছে। কিন্তু কীভাবে, কোন খাতে বা কী ধরনের সুবিধা নেওয়া হয়েছে—সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ দেওয়া হয়নি। এ ধরনের অনুমাননির্ভর ও প্রমাণবিহীন বক্তব্য দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিপন্থী এবং হলুদ সাংবাদিকতার বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিবৃতিতে অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, সংবাদপত্রের দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করা। কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা মহলের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে সংবাদমাধ্যম ব্যবহৃত হওয়া গণমাধ্যমের নৈতিকতা ও পেশাগত মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি সংশ্লিষ্ট পত্রিকাকে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার নীতি অনুসরণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদন প্রকাশ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।