নিরাপত্তার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে গানম্যান প্রদানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।
সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে ভিপি সাদিক কায়েম এ ঘোষণা দেন।
‘সরকারের পক্ষ থেকে গানম্যান প্রদানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান এবং সর্বস্তরের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি’—শিরোনামে ফেসবুক পোস্টে সাদিক কায়েম লেখেন, ‘সম্প্রতি জুলাই বিপ্লবের ছাত্র নেতৃত্ব, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার কর্তৃক গানম্যান প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সরকারের পক্ষ থেকে গানম্যান সংক্রান্ত বিষয়ে আমাকে অবহিত করা হয়। এই প্রস্তাব গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
তিনি লেখেন, ‘ছাত্র-জনতার সম্মিলিত প্রতিরোধের মাধ্যমে খুনি হাসিনার পতনের পর জনগণের আকাঙ্ক্ষা ছিল দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি দৃশ্যমান ও ন্যায্য পরিবর্তন ঘটবে। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখছি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ভূমিকার অভাব এবং বিভিন্ন দপ্তরে ফ্যাসিবাদী শক্তির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে জননিরাপত্তা বারবার ব্যাহত হচ্ছে।’
ডাকসু ভিপি লেখেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কার্যকরভাবে সক্রিয় করে সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের আওতায় আনলে আজ নিরাপত্তা নিয়ে এত উদ্বেগ থাকত না। এই প্রেক্ষাপটে বরং প্রশ্ন করা প্রয়োজন কেন সেই প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি!’
তিনি আরও লেখেন, ‘একদিকে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা জামিনে মুক্ত হয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াবে, তাদের হাতে ওসমান হাদিরা শহিদ হবেন, অথচ খু*নীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাবে। অন্যদিকে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য গানম্যান প্রদানের প্রস্তাব আসবে। এই বাস্তবতার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে আমার দ্বিধা হচ্ছে।’
সাদিক কায়েম লেখেন, ‘নিঃসন্দেহে আমাদের সবার নিরাপত্তা প্রয়োজন। তবে সেই নিরাপত্তা যদি কেবল কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে তা ইনসাফপূর্ণ হয় না। দেশের আপামর মানুষের জন্য একটি নিরাপদ ও ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মাণ-ই আমাদের দাবি। দেশের ছাত্র-জনতা এখনো অনিরাপদ অবস্থায় রয়েছে, তখন কেবল ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য গানম্যান গ্রহণ করাকে বর্তমানে আমি নিজের জন্য সঠিক মনে করছি না।’
এদিকে সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবনের সামনে ডাকসু হামলার ছয় বছর উপলক্ষে এক প্রতিবাদ সভায় যোগ দিয়ে নুরুল হক নুর বলেন, ‘একক ব্যক্তিকে গানম্যান দিয়ে গোটা দেশকে নিরাপদ করা সম্ভব নয়। জনগণের নিরাপত্তায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ঢেলে সাজাতে হবে। শুধু নির্বাচনের প্রার্থীদের নিরাপত্তা দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ও নিরাপদ ভোটের পরিবেশ তৈরি না হলে ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে যাবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘যে সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জনসম্মুখে পোশাক পরিহিত অবস্থায় নিজ কার্যালয়ের সামনে হামলা করেছে, সেই হামলাকারীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত সরকারের দেওয়া গানম্যান আমি প্রত্যাখ্যান করছি।’
পুলিশ ও সেনাবাহিনীর দুর্বৃত্তরা পোশাক পরিহিত অবস্থায় চলতি বছরের ২৯ আগস্ট জনসম্মুখে হামলা চালিয়েছিল অভিযোগ করে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি আরও বলেন, ‘৩০ কার্যদিবসের মধ্যে এই হামলার ঘটনা তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে চলতি বছরের ৪ সেপ্টেম্বর বিচার বিভাগীয় কমিটি গঠন করে— প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত ও বিচার করা হয়নি। এতে বোঝা যায়, সেদিনের হামলার ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকারের মৌন সমর্থন রয়েছে।’
তাই গানম্যান প্রত্যাখ্যান করে নিজের ওপর কোনো হামলা হলে তার দায় বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের নিতে হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দেন ডাকসুর সাবেক এই ভিপি।
এর আগে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছিলেন, নিরাপত্তা শঙ্কায় থাকা ব্যক্তিদের গানম্যান দেওয়া হয়েছে। ডিজিএফআই, এনএসআই, এসবি লিস্ট করেছে কারা কারা ভালনারেবল। সে অনুযায়ী গানম্যান দেওয়া হয়েছে। যদিও অনেকে গানম্যান নেয়নি। এ পর্যন্ত ২০ জনকে গানম্যান দেওয়া হয়েছে।