দীর্ঘদিনের চাপ, বিতর্ক আর রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর অবশেষে সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ইসরাইল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনের বড় দাবি- ‘নিষেধাজ্ঞা’ নাকচ করেছে ফিফা। তবে পুরোপুরি ছাড় পায়নি আইএফএ, অন্য এক অভিযোগে ঠিকই শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে তাদের।
ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ) দুটি আলাদা অভিযোগ তুলেছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল পশ্চিম তীরের দখলকৃত বসতি এলাকায় থাকা ক্লাবগুলোকে ইসরাইলের জাতীয় লিগে খেলার সুযোগ দেওয়া। এই ইস্যুতে কঠোর পদক্ষেপ চেয়েছিল ফিলিস্তিন, এমনকি ইসরাইলকে নিষিদ্ধ করার দাবিও ওঠে।
কিন্তু ফিফা এই বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। গভর্ন্যান্স প্যানেলের সুপারিশের ভিত্তিতে তারা জানায়, পশ্চিম তীরের চূড়ান্ত আইনি অবস্থান এখনো আন্তর্জাতিক আইনে জটিল ও অনির্ধারিত। ফলে এই প্রশ্নে কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। তবে অন্য অভিযোগে ছাড় মেলেনি। বৈষম্য, বর্ণবাদী আচরণ, আক্রমণাত্মক কার্যকলাপ এবং ফেয়ার প্লে নীতিমালা লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়ায় ইসরাইল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ১ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ (প্রায় আড়াই কোটি টাকা) জরিমানা করেছে ফিফা।
তদন্তে উঠে এসেছে আরও অস্বস্তিকর কিছু বিষয়। ফিফার বিচারকদের মতে, ইসরাইলি ফুটবলে রাজনৈতিক ও সামরিক বার্তার উপস্থিতি থাকলেও তা কার্যত উপেক্ষা করা হয়েছে। বিশেষ করে বেইতার জেরুজালেম ক্লাবের সমর্থকদের ধারাবাহিক বর্ণবাদী আচরণ নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়াকে বড় ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হয়েছে।
শুধু তাই নয়, বসতি এলাকাগুলোতে ফিলিস্তিনিদের ফুটবল অবকাঠামো থেকে কৌশলগতভাবে দূরে রাখার অভিযোগও গুরুত্ব পেয়েছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের আপত্তিকর মন্তব্যও বিবেচনায় নিয়েছেন বিচারকরা।
ফিফার নির্দেশ অনুযায়ী, জরিমানার এক-তৃতীয়াংশ অর্থ ব্যয় করতে হবে বৈষম্য প্রতিরোধ, সংস্কার, নজরদারি ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমে। পুরো একটি মৌসুমজুড়ে স্টেডিয়াম থেকে শুরু করে প্রশাসনিক স্তর পর্যন্ত চালাতে হবে সংস্কার কর্মসূচি, প্রোটোকল এবং সচেতনতামূলক উদ্যোগ; সবই ফিফার অনুমোদন সাপেক্ষে।
বিচারকদের ভাষ্য ছিল স্পষ্ট ও কড়া, ‘বেইতার জেরুজালেম ক্লাবের সমর্থকদের ধারাবাহিক বর্ণবাদী আচরণের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ইসরাইল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের আচরণ স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হয়েছে।’
তারা আরও বলেন, ‘বৈষম্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জরিমানার এক-তৃতীয়াংশ ব্যয় করতে হবে। ফুটবল যে বৃহত্তর মানবিক প্রেক্ষাপটে পরিচালিত হয়, তা থেকে আমরা উদাসীন থাকতে পারি না। এই খেলাটি শান্তি, সংলাপ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে থাকা উচিত।’
সব মিলিয়ে, নিষেধাজ্ঞা এড়ালেও চাপ থেকে মুক্ত নয় ইসরাইল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। বরং এখন তাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ, মাঠের বাইরের আচরণ বদলে দেখানো।