আইপিএলে আবারও উঠেছে দুর্নীতিবিরোধী বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ, আর সেটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। রাজস্থান রয়্যালস ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ম্যাচে রাজস্থানের টিম ম্যানেজার রোমি ভিন্দরের একটি কর্মকাণ্ড এখন তদন্তের কেন্দ্রে।
ঘটনাটি ঘটে গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচ চলাকালীন। টেলিভিশন ক্যামেরায় ধরা পড়ে, ডাগআউটে বসে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন ভিন্দর। তার পাশেই ছিলেন তরুণ ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশী। দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় তুমুল আলোচনা-সমালোচনা।
তদন্তে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ম্যাচ চলাকালে ডাগআউটে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তিনি নিয়ম ভেঙেছেন। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে বিসিসিআই।
বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, খেলোয়াড় ও ম্যাচ-সম্পর্কিত নির্ধারিত এলাকায় মোবাইল ফোন ব্যবহারে কড়াকড়ি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বিশেষ করে ডাগআউটকে উচ্চ-নিরাপত্তার এলাকা হিসেবে ধরা হয়, যাতে বাইরের কোনো প্রভাব খেলার ওপর না পড়ে। ড্রেসিংরুমে সীমিতভাবে ফোন ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও ডাগআউটে তা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
আইপিএলের নীতিমালাতেও এই বিষয়টি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ আছে। সেখানে বলা হয়েছে, দলের ম্যানেজার ড্রেসিংরুমে ফোন ব্যবহার করতে পারবেন, কিন্তু ডাগআউটে নয়। দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে যুক্ত একজন কর্মকর্তা হিসেবে ভিন্দরের এই নিয়ম জানা থাকার কথা, এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বোর্ডের ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘ঘটনাটি অনিচ্ছাকৃত হতে পারে, তবে এটি স্পষ্টতই নিয়মভঙ্গ।’—ফলে কোনো না কোনো শাস্তি যে আসছে, সেটাও প্রায় নিশ্চিত। ম্যাচ রেফারি ও দুর্নীতিবিরোধী ইউনিটের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে সতর্কবার্তা থেকে শুরু করে ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা—সবই থাকতে পারে সম্ভাব্য শাস্তির তালিকায়।
সবশেষে জানা গেছে, বিসিসিআইয়ের দুর্নীতিবিরোধী ইউনিট ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করতে যাচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে, আর তার ভিত্তিতেই নির্ধারণ করা হবে রোমি ভিন্দরের শাস্তি। সম্ভাব্য শাস্তির মধ্যে থাকতে পারে আর্থিক জরিমানা কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ডাগআউট ও ড্রেসিংরুমে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা।