বিশ্বকাপের ঠিক আগে এমন সিদ্ধান্ত, সাধারণত দলগুলো এড়িয়ে চলে। কিন্তু সৌদি আরব যেন উল্টো পথেই হাঁটল। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে দুই মাসেরও কম সময় বাকি, আর ঠিক তখনই কোচ হারভে রেনার্ডকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির ফুটবল কর্তৃপক্ষ।
রেনার্ডের গল্পটা সৌদি ফুটবলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে উত্থান-পতনের নাটকীয়তায়। ২০২৪ সালের শেষ দিকে দ্বিতীয়বারের মতো দায়িত্বে ফিরেছিলেন তিনি। এর আগে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও তার হাত ধরেই বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল সৌদি আরব। প্রথম ম্যাচেই লিওনেল মেসির শক্তিশালী আর্জেন্টিনাকে ২-১ গোলে হারান, যা ছিল সেই আসরের সবচেয়ে বড় অঘটনগুলোর একটি। যদিও টুর্নামেন্ট শেষে হাসি হেসেছিল আর্জেন্টিনাই, ট্রফি উঠেছিল তাদের হাতেই।
১৭ এপ্রিল এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেনার্ড বলেন, ‘ফুটবলে এমন ঘটনা স্বাভাবিক।’ নিজের সময়টাকে তিনি গর্বের সঙ্গেই দেখেন। সৌদি আরব সাতবার বিশ্বকাপে খেলেছে, যার মধ্যে দুবার তার অধীনে। শুধু তাই নয়, বাছাইপর্ব ও বিশ্বকাপ; দুই পর্যায়েই দলকে নেতৃত্ব দেওয়া একমাত্র কোচ তিনি।
রেনার্ডের কোচিং ক্যারিয়ারও বেশ সমৃদ্ধ। জাম্বিয়া ও আইভরি কোস্টকে নিয়ে আফ্রিকা কাপ অব নেশনস জয়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। ২০১৯ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত সৌদি আরবের কোচ ছিলেন, এরপর তার জায়গায় আসেন ইতালির রবার্তো মানচিনি।
২০২৩ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ফ্রান্স নারী দলের কোচ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সেই সময় নারী বিশ্বকাপ ও প্যারিস অলিম্পিকে দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছিলেন।
পরবর্তীতে মানচিনির উত্তরসূরি হিসেবে আবারও সৌদি আরবের কোচ হয়ে ফেরেন রেনার্ড। কিন্তু এবার তার যাত্রা থামল হঠাৎ করেই। এখন নতুন কোচ খোঁজার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইউরোপীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গ্রিসের জর্জিওস ডোনিসকে সম্ভাব্য কোচ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সৌদি ফুটবল ফেডারেশন ও আল খালিজ ক্লাবের মধ্যে আলোচনা চলছে, যেখানে ডোনিস বর্তমানে কোচ হিসেবে দায়িত্বে আছেন।
২০২৬ বিশ্বকাপে সৌদি আরব গ্রুপ এইচ-এ খেলবে। তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন ও উরুগুয়ে, এবং প্রথমবারের মতো অংশ নিতে যাওয়া কেপ ভার্দে। গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রের মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।
সূত্র - আল জাজিরা।