এবার ক্রিকেট মাঠের বাইরের এক সিদ্ধান্ত তৈরি করেছে ভেতরের অস্বস্তি। সাবেক অধিনায়কদের জন্য বিশেষ সুবিধা দিয়ে ‘ক্যাপ্টেন্স কার্ড’ চালু করেছে বিসিবির অ্যাডহক কমিটি, যার নেতৃত্বে আছেন তামিম ইকবাল। ১৬ এপ্রিল ২১ জন সাবেক অধিনায়কের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য ছিল সম্মান জানানো, কিন্তু সেই উদ্যোগই এখন বিতর্কের কেন্দ্রে।
এই কার্ড ঘিরেই সরব হয়েছেন সাবেক পেসার তাপস বৈশ্য। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, এটা সম্মান নাকি নতুন এক বৈষম্যের সূচনা?
তার মতে, এমনিতেই আগে থেকে অধিনায়কদের জন্য আলাদা সুবিধা ছিল। সাধারণ ক্রিকেটারদের যেখানে গ্যালারিতে বসে খেলা দেখতে হয়, সেখানে অধিনায়করা পান এসি বক্সের সুযোগ। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন এই কার্ড যেন ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দিল। তিনি বলেন, ‘এই যুগের বৈষম্য! আগে থেকেই খেলা দেখার জন্য অধিনায়কদের জন্য এসি বক্স আর অন্য জাতীয় দলের সতীর্থদের জন্য সাধারণ গ্যালারি! আর এখন তো কার্ড!’
ক্ষোভ এখানেই থেমে থাকেনি। তার ভাষায়, ‘অধিনায়করা রাজা আর অন্যরা প্রজা! অধিনায়ক হলেই তুমি চৌধুরী আর অন্য সতীর্থরা? খেলে তো সবাই মিলে ১১ জন বা ১৪ জন, খেলা ছেড়ে দেওয়ার পর সবাই জাতীয় খেলোয়াড়!’
বৈষম্যের উদাহরণ টানতে গিয়ে তিনি তুলে আনেন মোহাম্মদ রফিকের নাম। জনপ্রিয়তার দিক থেকে যিনি অনেক অধিনায়কের চেয়েও এগিয়ে,তবুও তাকে বসতে হবে সাধারণ গ্যালারিতে। আর নতুন বা কম পরিচিত অধিনায়করা পাবেন বাড়তি সুবিধা। এ বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না তাপস বৈশ্য। তার প্রশ্ন, ‘রফিক ভাইয়ের মতো জনপ্রিয় খেলোয়াড় কয়জন অধিনায়ক আছেন? রফিক ভাই বসবে সাধারণ গ্যালারিতে আর আনকোরা অধিনায়ক এসি বক্সে? অধিনায়কদের হেলথ ইনস্যুরেন্স দরকার আর অন্য সতীর্থদের!’
তিনি আরও বলেন, ‘কারও যদি আত্মসম্মান থাকে, তাহলে এই বৈষম্যের প্রতিবাদ করবে। যারা কার্ড পেয়েছে, তারা করবে না। কারণ তারা এখন বাংলা সিনেমার চৌধুরী হয়েছে।’
এই সিদ্ধান্ত তাকে ব্যক্তিগতভাবেও বিব্রত করছে বলে জানান তিনি, ‘এই বৈষম্যের কারণে আমি আমার নিজেকে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক খেলোয়াড় হিসেবে পরিচয় দিতেই লজ্জাবোধ করছি। এই যুগে এটা চরম বৈষম্য।’
শেষে এসে সরাসরি আঙুল তুলেছেন সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের দিকেও। সাবেক ক্রিকেটারদের বোর্ড পরিচালনায় আসা নিয়েও তার ক্ষোভ স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘আমি চাই আর যেন কখনোই কোনো সাবেক খেলোয়াড় বোর্ড সভাপতি না হয়। সব দেখা হয়ে গেছে!’