বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে উঠে ইতিহাস গড়েছে নরওয়ে। এবার তাদের সামনে আরও বড় পরীক্ষা। প্রতিপক্ষ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। কঠিন এই লড়াইয়ের আগে দলের সবচেয়ে বড় তারকা আর্লিং ব্রাউট হলান্ড যেমন বাস্তবতার কথাই বললেন, তেমনি জানিয়ে দিলেন স্বপ্ন দেখাও বন্ধ করছেন না তারা।
আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে নরওয়ে। ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে জয়সূচক গোল করে দলের নায়ক বনে যান হলান্ড। তবে ব্রাজিলকে সামনে রেখে নিজের দলের সম্ভাবনা নিয়ে খুব বেশি আশাবাদী নন এই স্ট্রাইকার। ব্রাজিলের বিপক্ষে নরওয়ের সম্ভাবনা কতটা—এমন প্রশ্নের জবাবে হালান্ড বলেন, ‘সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।’
তবে এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। হালান্ড বলেন, ‘আমরা যে শেষ ষোলো পর্যন্ত পৌঁছাতে পারব, সেটাই অনেকের প্রত্যাশার বাইরে ছিল। এবার ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলতে হবে, যা নিঃসন্দেহে বড় একটি চ্যালেঞ্জ।’
আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ম্যাচটিও সহজ ছিল না। প্রথমার্ধে আন্তোনিও নুসার গোলে এগিয়ে যায় নরওয়ে। পরে আমাদ দিয়ালো সমতা ফেরালেও শেষ মুহূর্তে গোল করে জয় নিশ্চিত করেন হলান্ড। ম্যাচ শেষে দলের লড়াইয়ের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আইভরি কোস্ট সত্যিই নরওয়েকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছিল। তবে দারুণ একটি দলের বিপক্ষে খুব কঠিন ম্যাচে তারা শেষ পর্যন্ত চ্যালেঞ্জ উতরে যেতে সক্ষম হয়েছে।’
শেষ ষোলো নিশ্চিত করাকে নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসের বড় অর্জন হিসেবেই দেখছেন হলান্ড। তার ভাষায়, ‘এটি ইতিহাস, অনুভূতিটা অবিশ্বাস্য। আমরা ২৮ বছর পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছি, গ্রুপ পর্ব পেরিয়েছি, আর এখন পরের রাউন্ডেও উঠেছি এবং নিউইয়র্কে ব্রাজিলের মুখোমুখি হব।’
নকআউটে উঠে বাড়তি চাপ নিতে চান না এই তারকা ফরোয়ার্ড। তিনি বলেন, ‘এটি অবিশ্বাস্য। এখন থেকে যা-ই হবে, সবই আমাদের জন্য বাড়তি প্রাপ্তি। এখন আমরা কোনো চাপ ছাড়াই খেলতে পারি এবং উপভোগ করতে পারি, কারণ আমার মনে হয় না আমরা আর কখনও এমন অনুভূতির মুখোমুখি হব।’
শুধু হলান্ড নন, নরওয়ের অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডও মুখিয়ে আছেন ব্রাজিলের বিপক্ষে লড়াইয়ের অপেক্ষায়। তিনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমরা নরওয়ে-ব্রাজিল ম্যাচের গল্প শুনে বড় হয়েছি, বিষয়টি সবসময় আমাদের মনে ছিল। এখন আমরা নিজেরাই সেই সুযোগ পাচ্ছি। এটা অসাধারণ। বিশ্বকাপে ব্রাজিলের চেয়ে বড় প্রতিপক্ষ আর হয় না। আমরা মুখিয়ে আছি। ফুটবলে সবকিছুই সম্ভব, তাই দেখা যাক আমরা আরেক ধাপ এগোতে পারি কি না।’
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে সুখস্মৃতিও আছে নরওয়ের। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে তারা ২-১ গোলে হারিয়েছিল ব্রাজিলকে। এবারও সেই ইতিহাস ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন নিয়েই মাঠে নামবে স্ক্যান্ডিনেভিয়ানরা।
আগামী রোববার (৫ জুলাই) নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে ব্রাজিল ও নরওয়ে। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ২টায়।