বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, ‘কোনো অজুহাত নয়, খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও ক্রিকেটপ্রেমীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রধান অগ্রাধিকার। নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকবে বাংলাদেশ।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বিসিবি কর্তারা। সেখানে সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সঙ্গে ছিলেন ফারুক আহমেদসহ আরও বেশ কয়েকজন পরিচালক।
বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে বিসিবি সভাপতি জানান, আমাদের প্রাথমিক দায়িত্ব খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে এর বাইরেও সাংবাদিক, স্পন্সর ও হাজারো সমর্থক থাকেন। বিদেশ সফরের জন্য যেহেতু সরকারি আদেশ প্রয়োজন হয়, তাই আমরা সরকারের দিকনির্দেশনার অপেক্ষায় আছি। নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি না হলে আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকারের জন্য লড়াই করব।
আইপিএলের নিলামে চেন্নাই সুপার কিংস ও দিল্লি ক্যাপিটালসের সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মুস্তাফিজকে দলে নিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। তবে ভারতের কয়েকটি হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর আন্দোলনের মুখে বিসিসিআইয়ের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত তাকে ছাড়তে বাধ্য হয় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়ায় ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে অন্য ভেন্যুতে আয়োজনের দাবি জানায় বিসিবি।
এ প্রসঙ্গে বুলবুল বলেন, যখন মোস্তাফিজের মতো একজন আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং তাকে বাদ দিতে হয়, তখন পুরো বাংলাদেশের সমর্থকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়াটা স্বাভাবিক। এটি অত্যন্ত যৌক্তিক প্রশ্ন।
এই পরিস্থিতির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিশ্বকাপ প্রস্তুতির ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। ইতোমধ্যেই জাতীয় দলের স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে এবং চলমান বিপিএলের অন্যতম লক্ষ্য হলো দলকে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে আরও প্রস্তুত করা।
বিসিবি সভাপতি আরও জানান, বিসিবি একটি ক্রীড়া সংস্থা হিসেবে কাজ করে এবং আইসিসি বা ফিফার মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে পেশাদার সম্পর্ক বজায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেয়। সরকার পরিবর্তন হলেও আমাদের যৌক্তিক অবস্থান বদলাবে না।
তিনি আরও জানান, নিরাপত্তা ইস্যুতে যদি বিশ্বকাপ নিয়েও আপস করতে হয়, তবে বাংলাদেশ তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকবে। আমরা একটি গ্রহণযোগ্য ও সঠিক সমাধানের আশা করছি।