ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়টা পরিবারকে নিয়ে শান্তিতে কাটানোর পরিকল্পনাই ছিল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর। সেই স্বপ্ন বাস্তব করতে পর্তুগালের কাসকাইসের অভিজাত কুইন্তা দা মারিনিয়া এলাকায় প্রায় ৩ কোটি পাউন্ড ব্যয়ে গড়ে তোলা হয়েছিল এক বিলাসবহুল প্রাসাদ। আটটি শয়নকক্ষ, দৃষ্টিনন্দন সুইমিং পুল আর ব্যক্তিগত সৈকতসহ এই ভিলাটিকেই রোনালদো ভেবেছিলেন অবসর-পরবর্তী জীবনের ঠিকানা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলেছে সেই ভাবনা।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে জমিটি কেনার সময় পরিকল্পনা ছিল, ফুটবলের আলোচনার কেন্দ্র থেকে সরে এসে এখানেই স্থায়ী হবেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা। চার বছরের নির্মাণকাজ শেষে এখন প্রাসাদটি পুরোপুরি প্রস্তুত। আন্ডারগ্রাউন্ড কার পার্কিং, জিম, ইনডোর ও আউটডোর সুইমিং পুল, ম্যাসাজ রুম, সন্তানদের জন্য আলাদা খেলার জায়গা—সব মিলিয়ে এটি একান্তই রোনালদোর রুচি আর প্রয়োজন অনুযায়ী তৈরি।
ভেতরের সাজসজ্জাও কম চোখধাঁধানো নয়। সোনার ট্যাপ, ইতালিয়ান মার্বেল আর বিশেষভাবে নকশা করা লুই ভিটন মুরাল—সবকিছুই এই বাড়িকে করেছে একেবারেই অন্যরকম। কিন্তু এত আয়োজনের পরও এখানে স্থায়ীভাবে থাকছেন না রোনালদো ও তার সঙ্গী জর্জিনা রদ্রিগেজ।
পর্তুগিজ গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এলাকায় পর্যাপ্ত ব্যক্তিগত গোপনীয়তা না পাওয়ার বিষয়টাই রোনালদোর সিদ্ধান্ত বদলের মূল কারণ। ‘পর্তুগিজ রিভিয়েরা’ নামে পরিচিত কাসকাইসের এই অভিজাত এলাকায় পর্যটক, হোটেল ও গলফ কোর্সের ঘনত্ব বেশি হওয়ায় ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও একান্ত সময় নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তিনি। পরিস্থিতি সামাল দিতে পাশের জমি কিনে প্রাসাদের পরিসর বাড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন রোনালদো, যাতে চারপাশে আরও আলাদা ও সুরক্ষিত পরিবেশ তৈরি করা যায়। তবে পাঁচতারকা হোটেল দ্য ওভিতাভোস ও একটি গলফ কোর্সের মালিকানাধীন সেই জমি কিনতে না পারায় পরিকল্পনাটি ব্যর্থ হয়।
এই গোপনীয়তার অভাবই চার বছরের ‘স্বপ্নের প্রকল্প’ থেকে সরে আসার মূল কারণ, আর সে কারণেই প্রাসাদটি এখন বিক্রির পথে। তবে পুরোপুরি বিদায় নেওয়ার আগে এখানে একটি বিশেষ আয়োজন করার কথা ভাবছেন রোনালদো। ভিপ্লাস ফার্মার দাবি, জর্জিনা রদ্রিগেজের সঙ্গে তার বিয়ের অনুষ্ঠান হতে পারে এই ভিলাতেই। সে ক্ষেত্রে এটি একই সঙ্গে বিয়ের ভেন্যু, হাউসওয়ার্মিং এবং বিদায় অনুষ্ঠানের স্থান হয়ে উঠতে পারে।
অবসর-পরবর্তী জীবনের ঠিকানা নিয়েও রোনালদোর দুশ্চিন্তার কারণ নেই। লিসবনে তার রয়েছে একটি বিলাসবহুল পেন্টহাউস, মাদেইরায় জন্মভূমির বাড়ি, পাশাপাশি মাদ্রিদ ও তুরিনে একাধিক প্রাসাদ। ফলে কাসকাইসের এই ভিলা বিক্রি হলেও বিকল্প আবাসনের অভাব হবে না।
সব মিলিয়ে, বাড়িটি বিক্রির সিদ্ধান্তের পেছনে আর্থিক নয়, বরং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কারণই মুখ্য। স্থায়ী ঠিকানার খোঁজে রোনালদো হয়তো আরও নিরিবিলি ও একান্ত কোনো জায়গার দিকেই নজর দিচ্ছেন।