প্রথমবারের মতো বিগ ব্যাশ লিগে নাম—বাংলাদেশের একজন খেলোয়াড়ের জন্য বিষয়টা স্বাভাবিকভাবেই আলাদা গুরুত্বের। নতুন পরিবেশ, ভিন্ন আবহাওয়া আর বিশ্বমানের ব্যাটসম্যানদের ভিড়—সব মিলিয়ে রিশাদ হোসেনের জন্য চ্যালেঞ্জটা ছিল বড়। তবে চাপ নয়, বরং ধৈর্য আর নিয়ন্ত্রণেই নিজেকে মেলে ধরছেন ২৩ বছর বয়সী এই স্পিনার।
বিগ ব্যাশে হোবার্ট হারিকেন্সের হয়ে খেলতে নেমে রিশাদ ইতিমধ্যে প্লে-অফ নিশ্চিত করা দলের নির্ভরতার নাম হয়ে উঠেছেন। ব্রিসবেন হিটের বিপক্ষে লিগ পর্বের ম্যাচেও বল হাতে ছিলেন দারুণ কার্যকর। পূর্ণ ৪ ওভার বোলিং করে মাত্র ২৭ রান দিয়ে নেন ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। ম্যাট রেনশোর মতো বিধ্বংসী ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে আক্রমণের গতি থামান তিনি, আর বেশিদূর যেতে দেননি মার্নাস লাবুশেনকেও।
যদিও শ্বাসরুদ্ধকর সেই ম্যাচে হোবার্টকে শেষ পর্যন্ত ৩ রানে হারতে হয়। ব্রিসবেনের ১৬০ রানের জবাবে তৃতীয় উইকেটে বিউ ওয়েবস্টার ও বেন ম্যাকডারমটের ঝড়ো জুটি হোবার্টকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিল। শেষ ওভারে ৬ রান দরকার হলেও জামান খানের নিখুঁত বোলিংয়ে তা আর সম্ভব হয়নি। শেষ বলে উইকেটে আসা রিশাদও এক রানের বেশি যোগ করতে পারেননি।
তবু হার-জয়ের বাইরে গিয়ে এই আসরে হোবার্টের ছন্দ ধরে রাখার পেছনে রিশাদের অবদান স্পষ্ট। প্রথমবার বিগ ব্যাশ খেলছেন—তা বলের লাইন-লেংথ দেখলে বোঝার উপায় নেই। ১০ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়ে স্পিনারদের মধ্যে তিনি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সফলদের একজন। ইকোনমি ও গড়—দুটোতেই রিশাদ এগিয়ে, যা জানান দিচ্ছে সামনে আরও বড় কিছু করার সামর্থ্য তার আছে।