ইরান যুদ্ধে মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েনের পদক্ষেপ হতে পারে তেহরানকে ‘বশ্যতা স্বীকারে বাধ্য’ করার একটি কৌশল। জাপানে নিজস্ব ঘাঁটি ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছে ‘৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট’। এটি কেবল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম স্থলসেনা ব্যবহারের ইঙ্গিতই নয়, বরং মার্কিন রণকৌশলে বড় পরিবর্তনেরও আভাস।
ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপ নিয়ে বিশ্লেষকেরা এমন মন্তব্যই করেছেন, যা উঠে এসেছে আল জাজিরার প্রতিবেদনে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, মার্কিন এই স্থলসেনারা ইরানের খারগ দ্বীপে তেল শোধনাগার অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারে। ইরানের অর্থনৈতিকভাবে সচল থাকার সক্ষমতাকে কার্যত পঙ্গু করে দেওয়াই এর লক্ষ্য।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য, তেহরানকে আত্মসমর্পণ বা বশ্যতা স্বীকারে বাধ্য করে যুদ্ধের দ্রুত সমাপ্তি ঘটানো। সমুদ্র এবং স্থল—উভয় ক্ষেত্রেই কাজ করতে সক্ষম এমন এক হাইব্রিড বা বহুমুখী বাহিনীকে এই লড়াইয়ে যুক্ত করা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।
গতকালও ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে তাদের যুদ্ধে স্থলসেনা ব্যবহার নিয়ে তেমন কোনো স্পষ্ট বার্তা দেয়নি।
শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধে আড়াই হাজার মার্কিন সেনার একটি দল মোতায়েন করা হচ্ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর এ ধরনের ঘটনা এবারই প্রথম।
জাপানের ওকিনাওয়ায় নিজেদের ঘাঁটি থেকে ‘৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট’ এখন যাত্রাপথে রয়েছেন। এই ইউনিটের সঙ্গে রয়েছে উভচর যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’।
বলা হচ্ছে, এই জাহাজ থেকেই মার্কিন সেনারা ইরানে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে নামবেন।