যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার উপদেষ্টাদের জানিয়েছেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান শেষ করতে প্রস্তুত, এমনকি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আংশিকভাবে বন্ধ থাকলেও। পরে এই জলপথ পুনরায় চালুর জটিল দায়িত্ব পরে নেওয়া হতে পারে।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, ফের চালু করার অভিযান তাদের নির্ধারিত চার থেকে ছয় সপ্তাহের সময়সীমা ছাড়িয়ে যাবে। তাই আপাতত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও নৌবাহিনীর ওপর হামলায় জোর দিয়ে, পরে কূটনীতিক চাপের মাধ্যমে প্রণালি খুলতে বাধ্য করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের দাম তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো প্রতি গ্যালন চার ডলার ছাড়িয়েছে।
ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধের জন্য আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি দ্রুত সমঝোতা না হয় এবং হরমুজ প্রণালি ব্যবসার জন্য খুলে না দেওয়া হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেলক্ষেত্র ও খারগ দ্বীপসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করতে পারে।
সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে হাজার হাজার সেনা ওই অঞ্চলে মোতায়েন করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তুতি ইরানকে আলোচনায় ছাড় দিতে বাধ্য করার কৌশলও হতে পারে।
অন্যদিকে, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর হামলার ফলে তেহরানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে। এতে আলোচনাও জটিল হয়ে উঠছে, কারণ বর্তমান আলোচকরা সরকারের প্রকৃত অবস্থান সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত নাও থাকতে পারেন।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এসব হত্যাকাণ্ডের ফলে আইআরজিসির কট্টরপন্থীরা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র যে ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা করছে তিনি হচ্ছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ, তিনি কট্টরপন্থী হিসেবে পরিচিত।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইতোমধ্যে অর্ধেকের বেশি লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে, তবে যুদ্ধ কবে শেষ হবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা দেননি। তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করা হয়েছে ও তাদের অস্ত্রশিল্প ধ্বংসের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা অভ্যন্তরীণভাবেই ভেঙে পড়তে পারে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে ঘিরে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। ফিন্যানসিয়াল টাইমস জানায়, ইরানে হামলার আগে তার এক প্রতিনিধি বড় অঙ্কের অর্থ প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগের চেষ্টা করেছিলেন। তবে পেন্টাগন এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়া বলে দাবি করেছে।
তথ্যসূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল