বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের মধ্যে ভারতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল বিপণন সংস্থাগুলো বুধবার (১ এপ্রিল) বাণিজ্যিক তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের (জেট ফুয়েল) দাম বাড়িয়েছে। জেট ফুয়েলের দাম শুরুতে ১০০ শতাংশের বেশি বাড়ানো হলেও সরকারের হস্তক্ষেপে পরে তা কিছুটা কমানো হয়েছে।
হিন্দুস্তান টাইমস আজ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দিল্লিতে হোটেল, হোস্টেল ও রেস্তোরাঁয় ব্যবহৃত ১৯ কেজি ওজনের বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৯৫ দশমিক ৫০ রুপি বাড়ানো হয়েছে। ফলে এর দাম ১ হাজার ৮৮৩ রুপি (৭ মার্চের হিসাব অনুযায়ী) থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৮ দশমিক ৫০ রুপিতে। অর্থাৎ এক ধাক্কায় দাম বাড়ল ১০ দশমিক ৪ শতাংশ। স্থানীয় করের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন শহরে এই দাম ভিন্ন হতে পারে।
এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এটি দ্বিতীয় দফায় মূল্যবৃদ্ধি। গত ৭ মার্চ এর দাম ১ হাজার ৭৬৮ দশমিক ৫০ রুপি থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৮৩ রুপি করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে এক মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে প্রায় ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ।
একই দিনে রাষ্ট্রীয় তেল সংস্থাগুলো গৃহস্থালি রান্নার গ্যাসের (১৪ দশমিক ২ কেজি সিলিন্ডার) দামও দেশজুড়ে ৬০ টাকা বাড়িয়েছে। এতে দিল্লিতে এর খুচরা দাম দাঁড়িয়েছে ৯১৩ রুপি, যা ২০২৩ সালের আগস্টের পর সর্বোচ্চ।
ভারতের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজার মূলত ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম—এই তিনটি রাষ্ট্রীয় সংস্থার নিয়ন্ত্রণে।
প্রতিবেদনটি জানিয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর ভিত্তি করে তেল সংস্থাগুলো প্রতি মাসে জেট ফুয়েলের দাম সংশোধন করে।
সেই অনুযায়ী, দিল্লিতে অভ্যন্তরীণ রুটের জন্য জেট ফুয়েলের দাম ১১৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এতে প্রতি কিলোলিটার জেট ফুয়েলের দাম ৯৬ হাজার ৬৩৮ দশমিক ১৪ রুপি থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭ হাজার ৩৪১ দশমিক ২২ রুপিতে। আন্তর্জাতিক রুটের ক্ষেত্রেও এর দাম ৮১৬ দশমিক ৯১ ডলার থেকে ১০৭ শতাংশ বাড়িয়ে ১ হাজার ৬৯০ দশমিক ৮১ ডলার করা হয় (প্রতি কিলোলিটার), যা ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা হিন্দুস্তান টাইমসকে জানান, ভারত সরকারের হস্তক্ষেপের পর সংস্থাগুলো অভ্যন্তরীণ রুটে জেট ফুয়েলের বর্ধিত দাম কিছুটা সমন্বয় করেছে, যাতে এয়ারলাইনসগুলোর ওপর চাপের পুরোটা সরাসরি না পড়ে।