ইসরায়েলের তেল আবিবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক বৈঠকে যোগ দিতে গিয়ে নিজের চেক-ইন করা লাগেজ (বিমানবন্দরে এয়ারলাইনসের কাউন্টারে জমা দেওয়া লাগেজ) খুঁজে না পেয়ে বিপাকে পড়েছিলেন দিল্লির এক বাসিন্দা।
দীর্ঘ ১৫ বছরের আইনি লড়াই শেষে টার্কিশ এয়ারলাইনসের বিরুদ্ধে করা অভিযোগে ভোক্তা আদালতে জয় পেয়েছেন তিনি।
দিল্লির দক্ষিণ-পশ্চিম জেলা ভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন বিমান সংস্থাটিকে সেবায় গাফিলতির জন্য দায়ী করে ভুক্তভোগীকে ৫০ হাজার রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কমিশনের সভাপতি সুরেশ কুমার গুপ্ত ও সদস্য হর্ষালি কৌর দিল্লির বাসিন্দা সন্দীপ গুপ্তের দায়ের করা অভিযোগের শুনানি করেন।
আন্তর্জাতিক সফরের সময় তার লাগেজ বিলম্বে পৌঁছানোর ঘটনায় টার্কিশ এয়ারলাইনসের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করা হয়েছিল।
গত ২৭ মে দেওয়া রায়ে কমিশন বলে, গন্তব্যে যাত্রীকে চেক-ইন করা লাগেজ বুঝিয়ে দেওয়া পর্যন্ত সেটির দায়িত্ব বিমান সংস্থার ওপরই থাকে। এক্ষেত্রে বিমান সংস্থাটি সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়। পরদিন লাগেজ পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল, এই যুক্তি দেখিয়ে তারা দায় এড়াতে পারে না।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১১ সালের ১৬ আগস্ট নিজের প্রতিষ্ঠানের পক্ষে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক বৈঠকে অংশ নিতে দিল্লি থেকে ইস্তাম্বুল হয়ে তেল আবিবের উদ্দেশে টার্কিশ এয়ারলাইনসের টিকিট কাটেন সন্দীপ।
তার ভ্রমণসূচিতে দিল্লি থেকে ইস্তাম্বুলের জন্য টিকে ৭১৭ এবং ইস্তাম্বুল থেকে তেল আবিবের জন্য টিকে ৭৮৬ ফ্লাইট দুটি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তবে তেল আবিবে পৌঁছানোর পর তিনি দেখতে পান, তার লাগেজ গন্তব্যে নেই।
পরে টার্কিশ এয়ারলাইনসের হারানো লাগেজ সংক্রান্ত কাউন্টারে যোগাযোগ করলে তাকে জানানো হয়, তার ব্যাগটি ইস্তাম্বুলেই থেকে গেছে। পরদিন সেটি পৌঁছে দেওয়া হবে।
যাত্রীর দাবি, হারিয়ে যাওয়া লাগেজে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, পোশাক ও ব্যবসায়িক বৈঠকের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য সামগ্রী ছিল।
নতুন পোশাক ও প্রয়োজনীয় প্রসাধনসামগ্রী কেনার জন্য তিনি বিমান সংস্থাটির কাছে জরুরি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ চান।
তবে তার দাবি, টার্কিশ এয়ারলাইনস সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে।
নিজের লাগেজের কোনো খোঁজ না পেয়ে সন্দীপ জানান, নির্ধারিত ব্যবসায়িক বৈঠকগুলোতে অংশ নেওয়ার জন্য নতুন পোশাক ও ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী কেনা ছাড়া তার আর কোনো উপায় ছিল না।
এজন্য তিনি ৯৩২ দশমিক ২৯ ইসরায়েলি শেকেল খরচ করেন, যা সেসময় প্রায় ১২ হাজার ৪৯৪ ভারতীয় রুপির সমান ছিল।
সন্দীপ অভিযোগ করেন, হঠাৎ করে এসব জিনিসপত্র কিনতে যাওয়ায় তার মূল্যবান সময় নষ্ট হয় এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটে।
অবশেষে ২০১১ সালের ১৭ আগস্ট অর্থাৎ তেল আবিবে পৌঁছানোর একদিন পর তার লাগেজ তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
এরপর ক্ষতিপূরণ চেয়ে টার্কিশ এয়ারলাইনসের কাছে একাধিকবার আবেদন করেন সন্দীপ। তবে সন্তোষজনক কোনো প্রতিকার না পেয়ে ২০১২ সালের মার্চে তিনি বিমান সংস্থাটিকে আইনি নোটিশ পাঠান। পরে বিষয়টি নিয়ে ভোক্তা আদালতের দ্বারস্থ হন।