ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পের ছয় দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তিন বছরের এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার জর্ডানের একটি উদ্ধারকারী দল এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটিকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনার সময় উল্লাসে ফেটে পড়েছেন উদ্ধারকর্মীরা।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, শিশুটির নাম ক্লিবার মোরান। তাকে লা গুয়াইরা রাজ্য থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনাকে ‘আশার মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট।
এমন সময়ে এই অলৌকিক ঘটনা ঘটল, যখন জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় লাখো মানুষের জরুরি ভিত্তিতে খাবার ও আশ্রয়ের প্রয়োজন।
এদিকে গত বুধবার ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাত হানা ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৯৪৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ। নিখোঁজ রয়েছেন আরও হাজার হাজার বাসিন্দা।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার উপগ্রহ উপাত্তের প্রাথমিক মূল্যায়ন বলছে, গত বুধবারের ভূকম্পনে আনুমানিক ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
জর্ডানের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, গতকাল ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া ক্লিবার মোরানকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।
ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, রাজধানী কারাকাসে শিশুটির চিকিৎসা চলছে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, ভূমিকম্পের পর প্রথম তিন দিন বা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। মোরানকে সেই নির্দিষ্ট সময়ের অনেক পরে উদ্ধার করা সম্ভব হলো।
ভেনেজুয়েলার লা গুয়াইরা এই ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি। সেখানে অনেক স্থানীয় বাসিন্দা নিজেরাই উদ্ধারকাজ চালানোর চেষ্টা করছেন।
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) গতকাল জানিয়েছে, লা গুয়াইরায় তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। ভেঙে পড়েছে মৌলিক সেবা ব্যবস্থা। যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
সংস্থাটি তাদের ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ সীমিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বাড়ছে।