যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, কাতারে হরমুজ প্রণালি নিয়ে গতকাল বুধবার ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পরোক্ষ আলোচনা বেশ ইতিবাচকভাবেই এগিয়েছে। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে ওয়াশিংটন আর পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযানে ফিরবে না।
গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকের ওপর ভিত্তি করে কাতারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে।
ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু হওয়া সংঘাতের অবসান ঘটানো এবং যুদ্ধের জেরে বন্ধ হওয়া হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করাই ছিল এই সমঝোতা স্মারকের লক্ষ্য।
একই সঙ্গে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ৬০ দিনের একটি আলোচনার সময়সীমাও এর মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়েছিল।
তবে এই সমঝোতা স্মারকের শর্ত ও ব্যাখ্যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান প্রকাশ্যে দ্বিমত পোষণ করে আসছে; যার জের ধরে গত সপ্তাহে দুই পক্ষই একে অপরের ওপর পাল্টা সামরিক হামলা চালায়।
ফলে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির মতো আরও জটিল ইস্যুগুলোতে অগ্রগতির তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাতারের রাজধানী দোহায় চলমান আলোচনা নিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স জানান, আগামী মাসে সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে ওয়াশিংটন আবারও পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযানে ফিরবে না, এমন কোনো নিশ্চয়তা তিনি দিতে পারছেন না। তবে এই মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্মকর্তাদের একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের ভার্জিনিয়া বিচে এক সফরে গিয়ে সাংবাদিকদের ভ্যান্স বলেন, ‘আমি কোনো কিছুর প্রতিশ্রুতি দিতে পারছি না। কারণ সবকিছুই শেষ পর্যন্ত ইরান কী পদক্ষেপ নেয়, তার ওপর নির্ভর করছে।
‘আমি যে বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিতে পারি, তা হলো, খুব বেশি প্রয়োজন না হলে এবং সুনির্দিষ্ট কোনো উদ্দেশ্য না থাকলে প্রেসিডেন্ট আমাদের সামরিক বাহিনীকে আবারও যুদ্ধে পাঠাবেন না।’
ভ্যান্স জানান, দোহায় চলমান আলোচনা মূলত হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর জোর দিচ্ছে। পরবর্তীতে তেহরানের পরমাণু সক্ষমতার বিষয়টি এতে অন্তর্ভুক্ত হবে।
তিনি বলেন, ‘আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তবে তা ইতিবাচকভাবেই এগোচ্ছে।’