ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাতভর ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
হামলার আগে গতকাল বুধবার রাতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, রাশিয়া ‘বড় ধরনের হামলার’ প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এর কয়েক ঘণ্টা পরেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে। এ পরিস্থিতিতে বেশ কয়েকটি এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়।
পরদিন ভোরে কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেনকো বলেন, হতাহতদের মধ্যে শিশুরাও রয়েছে। শত্রুপক্ষ আবারও ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আবাসিক এলাকাগুলোকে নিশানা করছে এবং বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করছে’।
অবশ্য রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, সম্প্রতি ইউক্রেনের চালানো হামলার জবাবে তারা কিয়েভের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই অভিযান চালিয়েছে।
এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, আজ ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে কিয়েভের সড়কে বিস্ফোরণের আঘাতে সৃষ্ট একটি বিশাল গর্ত দেখা যায়। ধ্বংসস্তূপের পাশে পুড়ে যাওয়া গাড়ি, ক্ষতিগ্রস্ত ভবন এবং ভেঙে পড়া অবকাঠামোও চোখে পড়ে।
হামলার পর কিয়েভজুড়ে একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। শহরের একটি অ্যাম্বুলেন্স স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যেখানে অন্তত একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
এছাড়া একটি হোটেলে লাগা আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের আপ্রাণ চেষ্টা করতে দেখা যায়।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৩ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। গত কয়েক ঘণ্টায় নিহতের এই সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত অলহা স্তেফানিশিনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘কিয়েভবাসীর জন্য আরও একটি ভয়াবহ রাত কাটল, যাদের বাধ্য হয়ে রাতে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে হয়েছে।
‘শহরের বেশ কয়েকটি জেলায় বেসামরিক অবকাঠামো এবং আবাসিক ভবনগুলোতে আগুন ও ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন স্পষ্ট।’